
বিডি ঢাকা ডেস্ক
রমজান মাসে ইফতারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাবার হলো খেজুর। সূর্যাস্তের পর বিশ্বের কোটি মুসলমান খেজুরকে ইফতারের প্রথম খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করেন। ইসলামী গ্রন্থ এবং কুরআনে খেজুরের উল্লেখ থাকায় এটি ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে খেজুর কেবল ধর্মীয় কারণে নয়, স্বাস্থ্যগত কারণে ও রোজাদারদের জন্য বিশেষ উপকারী।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক পুষ্টিবিদ শাহনাজ বশির বলেন, দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর শরীর দ্রুত শক্তি চায়। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ফলে শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ হয়। এছাড়া এতে জটিল কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন A, K, B6 এবং আয়রন থাকে, যা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা রোজাদারের জন্য আদর্শ।
শুকনো ফল হলেও খেজুর শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়তা করে। এতে থাকা পটাশিয়াম শরীরের কোষগুলোকে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। শাহনাজ বশির বলেন, “ইফতারে খেজুর খেলে অতিরিক্ত ইলেক্ট্রোলাইট নেওয়ার প্রয়োজন কমে যায়। পানিও খেলে শরীরের পানি ভারসাম্য বজায় থাকে।”
ইফতারের সময় খেজুর হজম শুরু করলে অতিরিক্ত খাবারের ইচ্ছাও কমে যায়। তাই খাদ্যের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়। রোজাদারদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপা একটি সাধারণ সমস্যা। খেজুরে থাকা ফাইবার অন্ত্রকে স্বাস্থ্যকর রাখে এবং বর্জ্য পদার্থ সহজে বের হতে সাহায্য করে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা (NHS) অনুযায়ী, পূর্ণবয়স্কদের দৈনিক ৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করা উচিত।
যদি কেউ খেজুর পছন্দ না করে, তাহলে বিকল্প হিসেবে খেজুরের বিভিন্ন ধরন বা স্মুদি, শরবত, দুধ, দই ও শুকনো ফলের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ। এইভাবে খেজুর শরীরের জন্য শক্তি, পুষ্টি এবং হজমে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।