
বিডি ঢাকা ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ বলেছেন— কালেক্টরেট ইংলিশ স্কুল ও গ্রিন ভিউ স্কুলকে মডেল স্কুল হিসেবে জেলা প্রশাসন দেখতে চায়। আমরা চাই, এই জেলার শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রথম সারিতে থাকবে এই দুটি স্কুল।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন— শুধুমাত্র ইংরেজি শেখানোর জন্য আপনার বাচ্চাকে এখানে আনবেন না। কারণ, শুধু দুয়েকটি ইংরেজি বলতে পারলেই হবে না, আপনার বাচ্চাকে সব্যসাচী হতে হবে। একজন মানুষ হিসেবে প্রত্যেকটি জায়গায় তার অবদান রাখতে হবে। এই যে শিশুটি পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করল এবং বাংলা, ইংরেজিসহ ৮টি ভাষায় অনুবাদ করল। এটি হচ্ছে তার দক্ষতা। সে তার মাতৃভাষাটা ভালোভাবে বোঝে। কাজেই আপনাদের সন্তানদের সেভাবেই গড়ে তুলতে হবে। মাতৃভাষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সবার ওপর প্রতিটি শিশুকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করতে হবে। কেননা, নীতি-নৈতিকতা ছাড়া কোনো মানুষ হবে না।
তিনি বলেন— এর আগে আমরা দেখেছি, বহু মেধাবী ছাত্র তাদের নৈতিকতা ধরে রাখতে পারেনি। পত্রিকায় তারা শিরোনাম হয়েছে। আমরা এই ধরনের শিক্ষার্থী চাই না। বাংলাদেশ রাষ্ট্র এমন শিক্ষার্থী চায় না। রাষ্ট্র নীতি-নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন ভালো মানুষ, মেধাবী শিক্ষার্থী চায়। এই উদ্দেশ্যেই এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি বলেন— এই বাচ্চাদের টেককেয়ার করা শুধু শিক্ষকদের দায়িত্ব নয়, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে অভিভাবকদের। শিশুদের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে একটি সুসম্পর্ক থাকা দরকার। আপনারা শিক্ষকদের সঙ্গে সেই সম্পর্ক গড়ে তুলুন।
বুধবার সকালে জেলা প্রশাসন পরিচালিত কালেক্টরেট ইংলিশ স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া, বনভোজন ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কালক্টরেট ইংলিশ স্কুলের অধ্যক্ষ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি মোছা. রুমানা আফরোজের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন— পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, স্থানীয় সরকার চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্কুলটির ভাইস প্রিন্সিপাল মো. সাদিকুল ইসলাম।
সামনে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর শিক্ষা নিয়ে একটি প্ল্যান রয়েছে বলে জানিয়ে জেলা প্রশাসক তার জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন— আমি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের ছাত্র ছিলাম। সেখানে প্রথমেই দেখেছি ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হয়েছে। সকল ধর্মের শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আমি মনে করি, নৈতিকতার প্রথম সোপান হচ্ছে ধর্মীয় মূল্যবোধ। এছাড়া রয়েছে পারিবারিক শিক্ষা। স্কুলজীবনে আমি দেখেছি, বিতর্ক ক্লাব, বিজ্ঞান ক্লাব, ন্যাচারাল স্টাডি ক্লাবসহ বিভিন্ন ক্লাব। এখানে যারা শিক্ষক আছেন, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ, বাচ্চাদের মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে স্কাউটিং থেকে শুরু করে এসব ক্লাবগুলো চালু করবেন। এর মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটবে এবং জ্ঞান ট্রান্সফার হবে। প্রয়োজনে বাচ্চাদের ক্রিকেট দেন, ফুটবল দেন। ক্লাবগুলোতে সক্রিয় করুন। তাহলে দেখবেন আপনাদের আর কষ্ট করে পড়াতে হচ্ছে না। বাচ্চারাই আপনাদের প্রশ্ন করবে আর এর মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীরা শিখবে এবং জ্ঞানার্জন করবে। এজন্য শিক্ষকদেরও পড়াশোনা করতে হবে। কোনোভাবেই বাচ্চাদের ভুল উত্তর দেয়া যাবে না।
তিনি বলেন— প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ, না জানা কোনো সমস্যা নয়; কিন্তু ভুল উত্তর দেয়া অপরাধ। কাজেই বাচ্চারা যখন প্রশ্ন করবে, তখন তাদের প্রশ্ন এড়িয়ে যাবেন না। সঙ্গে সঙ্গে না পারলে সময় নিন এবং সঠিক উত্তরটি দিন।
শিক্ষার্থীদের তিনি বলেন— প্রিয় শিক্ষার্থী তোমরা শেখ, লার্ন করো। তোমরা যত বেশি লার্ন করবে, তত বেশি শিখতে পারবে।
জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যের শুরুতেই শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হককে।
আলোচনা শেষে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।