শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাসিক মেয়রের সাথে পটিয়া পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষ : আহত ১০ বরিশালে পুলিশ-শিক্ষার্থী দফায় দফায় সংঘর্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ, রাজশাহীতে যুবদল নেতাসহ আটক ৫ কোটা সংস্কার : সড়ক অবরোধ দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইসলামপুরে রাস্তা প্রসস্তকরণ ও উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নাচোলে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

জিয়া-খালেদা-এরশাদ একই বৃন্তের কয়েকটি ফুল: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১
  • ২০৭ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী এক সেনা শাসকের পকেট থেকে যে দলের সৃষ্টি তারা গণতন্ত্রের কি বুঝে? কোন গণতন্ত্র শিখাবে? তারা কি গণতন্ত্র শেখাবে আমাদেরকে? আজ তাদের মুখেই শুনতে হয় গণতন্ত্রের সংজ্ঞা। যাদের জন্মই হয়েছে অবৈধভাবে, কুর্দি পরে। জিয়া-খালেদা জিয়া-এরশাদ একই বৃন্তের কয়েকটা ফুল।

শনিবার (০৩ জুলাই) দুপুরে একাদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল ১১টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

তিনি বলেন, যদি বিএনপির আমল আর এরশাদের আমলের কাহিনী বলতে থাকি তাহলে অনেক সময় লেগে যাবে। জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে প্রতিরাতে কারফিউ দিয়েছিল। ১৯৮০ সালে যখন বাংলাদেশে আসি তখন শুনি কারফিউ। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত কারফিউ। বিএনপি কি গণতন্ত্র দিয়েছিল, জিয়াউর রহমান দিয়েছিল কারফিউ গণতন্ত্র। হ্যাঁ অনেকগুলি দল করার সুযোগ দিয়েছিল এটা ঠিক, কিন্তু সেখানে গণতান্ত্রিক চর্চা ছিল না। আর নির্বাচনের ফলাফল তা আগেই ঠিক করা থাকত। ১৯৭৮ সালের হ্যাঁ-না ভোট ’৭৯ সালের নির্বাচন সবই ছিল খেলা। তার পরবর্তীতে যদিও আসেন এরশাদ সাহেব। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে ৪৮ ঘণ্টা ভোটের ফলাফল আটকে রেখে আওয়ামী লীগকে হারালো। আসলে জিয়া-খালেদা জিয়া-এরশাদ সব একই বৃন্তের কয়েকটি ফুল।

খালেদা জিয়ার আমলে নির্বাচনের হালচিত্র তুলে ধরে বলেন, খালেদা জিয়া তারাও একই কাজ করেছে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। সেই নির্বাচন পরিচালনা করেছিল বিচারপতি সাদেক আলী, কোনও ভোটার নাই চারদিকে আর্মি দিয়ে কোন ভোটার যেতে পারলো না কিন্তু ভোট হয়ে গেল। ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন করে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় বসে ছিল। এরপর ৩০ শে মার্চ জনগণের আন্দোলনে খালেদা জিয়া পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। তারপর জুন মাসের ১২ তারিখে যে নির্বাচন হয় সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয় ক্ষমতায় আসে। আমাদের সাথে অন্যান্য পার্টিও এসেছিল যেমন জাতীয় পার্টি, আ স ম আব্দুর রব ছিল। ১৫ ফেব্রুয়ারির মত যারা নির্বাচন করতে পারে জনগণের আন্দোলনে যারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় তারা কিভাবে গণতন্ত্র দিয়েছে, গণতন্ত্রের সংজ্ঞা কি বুঝাবে সংসদে আমাদের।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মাটি মানুষ থেকে গড়ে ওঠা দল। জনগণের অধিকার, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঁচার অধিকার এবং এই দেশকে স্বাধীন করার পুরো পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গঠিত। আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার অনেক চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু পারেনি, পারবে না। কেন না আমাদের আওয়ামী লীগের শেকড় অনেক শক্তিশালী। আর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে বলে টিকে থাকতে পারে । আর টিকে থাকতে পারে বলেই দেশের উন্নয়ন হয়। আর যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে তারা ক্ষমতা হারানোর ভয়ে শুধু টাকা বানাতে থাকে, পয়সা বাড়াতে থাকে।এসব করে করে বাংলাদেশের মানুষের দিকে তারা ফিরেও তাকায় না। আজকে আমরা মানুষের দিকে তাকাচ্ছি, মানুষের জন্য কাজ করছি বলেই আজ মানুষ পেট ভরে খেতে পাচ্ছে মানুষের ঘর হচ্ছে, চিকিৎসা পাচ্ছে, বাঁচার জন্য উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখতে পাচ্ছে। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়িত্ব এবং সে দায়িত্ব বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদেরের বক্তব্য প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিচারপতি নিয়োগের যে নমুনা ছিল, সেই নমুনা যদি একটু স্মরণ করেন.. বিচারপতি কামাল উদ্দিন হুসেন তিনি এজলাসে বসে আছেন, প্রধান বিচারপতি। একজন প্রধান বিচারপতি বসে আছেন এজলাসে কিন্তু তিনি জানেন না তিনি নাই। তখন মাননীয় উপনেতা (জিএম কাদের) আপনার বড় ভাই জেনারেল এরশাদ সাহেব ক্ষমতায় তিনি রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির কলমের খোঁচায় বিচারপতি নাই। উনি প্রধান বিচারপতি হিসাবে এজলাসে বসে আছেন, কোর্ট চালাবেন তখন উনাকে বলা হলো আপনি তো নাই, কারণ রাতের বেলা আপনাকে বিদায় দেওয়া হয়েছে কলমের খোঁচায়। এই হলো বিচারপতি তারপর একজনকে দিলেন বিচারপতি মুনিমকে তিনিও আর বসতে পারেননি এটা হল বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে। আর বিএনপির আমলে তো আরও এক ধাপ। এবারে জাল সার্টিফিকেট হাতেনাতে ধরা। শুধু তাই না আর একজন বিচারপতি তিনি এক মামলার রায় দিবেন অথচ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের গলায় হাত দিয়ে বসে সেই রায় নিয়ে আলোচনা করছিলেন সেটাও দেখা গেল। কাজেই বিচার ব্যবস্থার যে কি অবস্থা ছিল? সেটা দেশবাসী জানে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে এনেক্স ভবন করে বিচারক বৃদ্ধির ব্যবস্থা নিয়েছি, আমরা সেটা করেছি। প্রত্যেক জেলায় বিচার বিভাগের এ পর্যন্ত যত উন্নয়ন সেটা কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার করেছে। আমরাই করে যাচ্ছি। আর কেউ করে নাই।

তিনি বলেন, বিএনপির আমলে কি করেছে ৬৪ জেলায় আদালতে বোমা মারা শুরু হয়েছে। দুইজন জেলা জজ মারা গেছে, কয়েকজন আহত হয়েছে। এটা হল বাস্তবতা। একই দিনে একই সময় বোমা মারা। কারণটা কি? এত শান্তিপূর্ণ অবস্থা তারা রেখেছিল বিএনপি’র আমলে তাদের কাছ থেকে এখন শুনতে হয় বিচারব্যবস্থা, বিচারক নিয়োগ ইত্যাদি ইত্যাদি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যেদের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ নিয়ে তারা চিন্তিত। কিন্তু বিএনপি’র আমলে জাতীয় পার্টি সরকারের আমলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবস্থাটা কি ছিল? প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে খুন-খারাপি লেগেছিল। বোমাবাজি, গুলি মানুষ খুন, ক্লাস বন্ধ সেশনজট লেগেছিল। আমরা সরকারে আসার পর অন্তত এইগুলো বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চুন্নু মিয়া থেকে কত ছেলেকে তারা মেরেছে। এমনকি বিএনপির নিজের দলের ছেলে পাগলা শহীদ থেকে শুরু করে কত জনকে যে হত্যা করেছে। বাবলুকে হত্যা করল বিএনপি। বিএনপি নিজেরাই নিজেদেরকে হত্যা করে, আর চুন্নুকে তো খালেদা জিয়া নিজেই অর্ডার দিয়ে হত্যা করেছে কারণ সে ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়েছিল এটাই ছিল তাঁর অপরাধ।

সংসদ নেতা বলেন, জাতির পিতা মাদক নিষিদ্ধ করেছিলেন জিয়াউর রহমান এসে লাইসেন্স দিল। মাদক সারা বাংলাদেশে একটা বিরাট সমস্যা, সারাবিশ্বব্যাপী সমস্যা আমরা চিন্তা করছি ব্যবস্থা নিচ্ছি কিভাবে মাদকটাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই বাবা-মাকে বলবো তারাও যেন একটু নিজের ছেলেমেয়েদের দিকে নজর দেয় তাদের ছেলে-মেয়েরা কেন এই পথে যাচ্ছে। শুধু টাকা দিয়ে ছেলেমেয়েদের পাললে হবে না, ছেলে মেয়েকে সেভাবে শিক্ষাটা দিতে হবে।

ধর্ম নিরপেক্ষতা নিয়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের বক্তব্যের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, বিএনপির একজন নেতা প্রায়ই অনেক কথা বলেন, তিনি বলেছেন কোরআন শরীফে নাকি ধর্মনিরপেক্ষতার কথা নাই। ‘অবশ্যই আছে’। আমাদের নবী করিম সা. বলেছেন অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীল হতে, তিনি শিক্ষা দিয়েছেন, কোরআন শরীফ আমাদেরকে তাই বলে। ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম সকল ধর্মের মর্যাদা দেয়, কোরআন শরীফে লাকুম দিনুকুম ওয়ালিয়াদিন মানে যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। যার যার মতামত শেষে প্রকাশ করবে। এটা প্রকৃতপক্ষে ধর্মনিরপেক্ষতাই আসে। তিনি যতই অস্বীকার করুক, যেভাবেই তিনি ব্যাখ্যা দেন না কেন কিন্তু এটা হল বাস্তবতা। যুগ যুগ ধরে এভাবেই চলছে। এটা সব সময় হয়েছে। অবশ্যই যার যার নিজের ধর্ম পালনে সবসময় গুরুত্ব দিতে হবে কিন্তু অন্য ধর্মের প্রতি ও সহনশীল থাকতে হবে। এটা আমাদের শিক্ষা নবী করিম (সা.) সবসময় বলে গেছেন, বিদায় হজ্বেও বলে গেছেন কাজেই এই ধরনের কথা বোধহয় পার্লামেন্টে না বলাই ভালো।

ভোট প্রসঙ্গে রাখা বক্তব্যের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, বিএনপির আমলে নাকি খুব ভালো অবস্থা ছিল? ভোট চুরি করার সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রধান বিচারপতি যে হবে তার বয়স বাড়িয়ে দিয়েছিল সে যাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে পারে। সে ব্যবস্থা নেওয়ারও নজির সৃষ্টি করেছিল তারা। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কি হচ্ছে? গণতন্ত্র কি আছে? কার মুখে শুনি? এমন একটি দল যে দলটা সৃষ্টি করেছে একজন সামরিক জান্তা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় যার মূল শক্তি ছিল এই জিয়াউর রহমান। খুনি কর্নেল রশিদ এবং ফারুক তাদের বিবিসির ইন্টারভিউতে স্পষ্ট আছে এবং মোশতাকের সব থেকে প্রিয় পাত্র জিয়াউর রহমান। জিয়া যদি তাদের সাথে না থাকতো তাহলে কোনদিন এই ষড়যন্ত্র করতে পারত না।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2009-2022 bddhaka.com  # গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Developed BY ThemesBazar.Com