মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গোমস্তাপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে আলোচনা সভা স্কুল বালক-বালিকাদের দিনব্যাপী দাবা প্রতিযোগিতা তোমাদের মানুষের মতন মানুষ হতে হবে : এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে মেয়র মোখলেস ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে জেলা প্রশাসনের আর্থিক সহায়তা ২ নভেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ মনি স্বদেশ বিচিত্রা সম্মাননায় ভূষিত হবেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালার সমাপনী পাটচাষি সমাবেশ : উৎপাদনে ভূমিকা রাখায় ক্রেস্ট পেলেন ১০ চাষি পরীক্ষার ফল ভালো করলে সবই করে দেয়া হবে : শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজে ওদুদ এমপি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২২৭ জাতের আম নিয়ে আম মেলা শিবগঞ্জে ভিজিএফের চাল পেল ৭৩৮৩৫টি অসহায় পরিবার

গোমস্তাপুরে বিঘাপ্রতি আড়াই হাজার টাকা খরচে ৪০ মণ ফলনের আশা কৃষকদের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩
  • ৮৩ বার পঠিত

বিডি ঢাকা অনলাইন ডেস্ক

 

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে প্রথমবারের মতো সমলয় পদ্ধতিতে আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদের খরচ খুবই কম, বিঘাপ্রতি প্রায় আড়াই হাজার টাকা। ফলনও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা, প্রতি বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০ মণ। সরকারি কৃষি প্রণোদনার আওতায় উপজেলার ৫৪ জন কৃষক এই প্রথম সমলয় পদ্ধতিতে বোরো আবাদ করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের ষাঁড়বুরুজ এলাকায় ৫০ একর জমিতে সমলয় পদ্ধতিতে প্রথমবারের মতো বোরো আবাদ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে ৫৪ জন কৃষক প্রণোদনার উচ্চ ফলনশীল জাত এসএল-৮এইচ রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের মাধ্যমে এর চাষাবাদ করেছেন। কৃষকরা আশা করছেন, বিঘাপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ মণ ধান উৎপাদনের। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে শ্রমিক ও চাষাবাদ খরচ অত্যন্ত কম বলে কৃষক ও কৃষি বিভাগ উভয়পক্ষই জানিয়েছে।
গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৫৪ জন কৃষক কৃষি বিভাগের তদারকিতে ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে ট্রেতে চারা উৎপাদন শুরু করে। সেখানে কৃষির সর্বাধিক কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রেতে একই জাতের বীজ বপন করা হয়। বীজ উত্তোলন ও জমিতে রোপণের শ্রমিক ছাড়া রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহার করা হয়েছে। কৃষকদের সুষম সারের ব্যবহার, আন্তঃপরিচর্যা, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনাসহ সব বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক পরেই এ ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হবে। উৎপাদন বাড়াতে ও খরচ সাশ্রয়ে ধান কাটতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার ব্যবহার করা হবে।
এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সমলয় পদ্ধতিতে চাষাবাদকে যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে শ্রমিক সংকটের সমাধান হচ্ছে। বিঘাপ্রতি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ মণের উপরে। কৃষকরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে খুশি। পরবর্তী মৌসুমে তারা অন্যদেরও উৎসাহী করবেন বলে জানিয়েছেন।
কৃষক রশিদ, সাইদুলসহ অনেকেই বলেছেন, এই পদ্ধতি তারা অবগত ছিলেন না। যন্ত্রের মাধ্যমে বীজ বপন ও রোপণ এই প্রথম দেখলেন। যদিও প্রথমে তারা এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে আগ্রহী ছিলেন না। বীজ ও ধান উৎপাদন হবে কিনা, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। পরবর্তীতে কার্যক্রম দেখে তাদের দুশ্চিন্তা কেটে এখন এই পদ্ধতিতে চাষাবাদে আরো বেশি উৎসাহিত হয়েছেন। তারা জানান, এই সমলয় পদ্ধতি ব্যবহার করে তাদের খরচ কম হয়েছে। শ্রমিক তেমন প্রয়োজন হয় না।
ধানের শীষ দেখে তাদের চোখেমুখে খুশির ঝিলিক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে অধিক উৎপাদন হবে বলে আশা তাদের।
বাবুরঘোন মহল্লার কৃষক রফিকুল ইসলামও এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেছেন। দুই বিঘা জমিতে শুধু চাষ করেছেন তিনি। বাকিটা কৃষি অফিস বীজ, সারসহ সব সুবিধা দিয়েছে। যন্ত্রের মাধ্যমে জমিতে বীজও বুনে দিয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা জমি দেখতে আসেন, কখন কি লাগবে সে পরামর্শ দেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেছি। রফিকুল ইসলাম জানান, আগে বিঘাপ্রতি ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করতে হতো। এখন এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে সেই হিসাবে কোনো খরচই নেই, মাত্র দেড় থেকে আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
সমলয় পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা কৃষক মশিউর রহমান জানান, তার দুই বিঘা জমিতে আগাছা পরিষ্কার, বিষসহ আনুষঙ্গিক মিলিয়ে ২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, এটা একটা ভালো পদ্ধতি। শ্রমিক ও উৎপাদন খরচ অনেক কম। আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার ঘটেছে, এতে আমাদের আগ্রহও বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ সরকার বলেন, ফসল কাটার সময় শ্রমিক সংকট এখন বাংলাদেশে নিত্যবছরের সমস্যা। সামনে এ সংকট আরো বাড়বে। এর একটা সমাধান হতে পারে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের কৃষি বিভাগ কৃষির উৎপাদনকে অগ্রগামী করতে নতুন পদ্ধতি নিয়েছে। সেটিই হচ্ছে সমলয় পদ্ধতি। সমলয় পদ্ধতি হচ্ছে আধুনিক কৃষির সময়োপযোগী প্রযুক্তি। নতুন এ পদ্ধতিতে বীজতলা থেকে ফসল কাটা, সবই এক সময়ে একযোগে করা হয়। স্বল্প মানুষের সাহায্যে কাজটা করে যন্ত্র। এতে অনেক সাশ্রয়ী হচ্ছে উৎপাদন খরচ। তিনি বলেন, গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের ষাঁড়বুরুজ এলাকায় ৫৪ জন কৃষককে নিয়ে প্রায় ৫০ একর জমিতে প্রথমবারের মতো সমলয় পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে কম্বাইন্ড হারভেস্টার যন্ত্রের সাহায্যে ধান কাটা শুরু করা হবে।
এই কৃষি কর্মকর্তা আশা করছেন ভালো ফলনের। তিনি বলেন, এই পদ্ধতি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কৃষকের মধ্যে লাভজনক হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। আমরা কৃষি বিভাগ চেষ্টা করছি, যেন এই সমলয় পদ্ধতি কৃষকের মধ্যে দ্রুত সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয় হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2009-2022 bddhaka.com  # গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Developed BY ThemesBazar.Com