1. bddhaka2009bd@gmail.com : FARUQUE HOSSAIN : FARUQUE HOSSAIN
  2. bddhakanews24.com@gmail.com : admi2017 :
শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০৫ অপরাহ্ন

চাঞ্চল্যকর সাহিনুদ্দিন হত্যা মামলায় ছেলের সামনে বাবাকে খুন করে কিলারের ফোন, ‘স্যার ফিনিশ’

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ মে, ২০২১
  • ১৬২ বার পঠিত

নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজধানীর পল্লবীতে চাঞ্চল্যকর সাহিনুদ্দিন হত্যা মামলায় আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. সুমন বেপারী (৩৩) ও মো. রকি তালুকদার (২৫)।

এদিকে চাঞ্চল্যকর সাহিনুদ্দিন হত্যায় সময় লাগে পাঁচ থেকে সাত মিনিট। ঘটনার পরপরই সাবেক এমপি ও হ্যাভেলি প্রাপার্টিজের মালিক এমএ আউয়ালকে ফোন করে মূল ঘাতক কিলার সুমন বেপারী বলে, ‘স্যার ফিনিশ’।

৪-৫ দিন আগে আউয়ালের কলাবাগানের অফিসেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ সময় তাহের ও সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন বেপারীসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিল। হত্যা বাস্তবায়নে মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় সুমনকে। তার নেতৃত্বে ১০-১২ জন সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নেয়।

বৃহস্পতিবার বিকালে কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির লিগ্যাল আন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার আল মঈন।

বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সাহিনুদ্দিন হত্যার ঘটনায় আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- সাবেক এমপি এমএ আউয়াল, হাসান, জাহিরুল ইসলাম বাবু, সুমন বেপারী ও রকি তালুকদার। এদের মধ্যে আউয়াল, হাসান ও বাবুকে র‌্যাব এবং সুমন ও রকিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করেছে।

এর আগে র‌্যাব ও পুলিশের পৃথক অভিযানে গ্রেফতার হয় মুরাদ ও দিপু। দুই দিনের রিমান্ড শেষে মুরাদকে বৃহস্পতিবার ফের তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি। দিপুকে শুক্রবার আদালতে হাজির করা হতে পারে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সুমন ও রকির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাহিনুদ্দিন হত্যাকাণ্ডে ৩০ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছে বলে র‌্যাব জানতে পেরেছে। টিটুর মাধ্যমে সুমনের কাছে টাকা আসে। ১৫ মে সুমন ও বাবুসহ কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারীরা শলাপরামর্শ করে। ১৬ মে বিকালে তারা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। পূর্ব বিরোধ মীমাংসার কথা বলে সাহিনুদ্দিনকে সেখানে ডেকে আনা হয়। এ সময় সাহিনের সাত বছরের সন্তান মাশরাফিও সঙ্গে ছিল। সাহিন ঘটনাস্থলে আসার পর সুমন, মনির, মানিক, হাসান, ইকবাল ও মুরাদসহ ১০-১২ জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু সন্তানের সামনেই এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। শেষ পর্যায়ে শরীরের ওপরের অংশে মনির এবং মানিক হাঁটু ও পায়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এ সময় বাবুসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে লুকআউট ম্যান হিসেবে নজরদারি করে।

কমান্ডার আল মঈন জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে র‌্যাব উদ্যোগী ছিল। ১৭ মে এজাহারনামীয় আসামি দিপুকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার করে পল্ল­বী থানায় সোপর্দ করে র‌্যাব।

তিনি বলেন, গ্রেফতার মূল আসামি আউয়াল একজন আবাসন ও জমি ব্যবসায়ী। তার ছত্রছায়ায় সুমন সন্ত্রাসী গ্রুপ দিয়ে জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তার করতো। আউয়ালের কাছ থেকে সুমনবাহিনীর সদস্যরা প্রতি মাসে ১০-১২ হাজার টাকা করে মাসোয়ারা পেতো। ক্ষেত্র বিশেষ কাজ অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা পেতো। সুমনের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, রিকশা টোকেন বাণিজ্য, মাদক এবং জুয়াসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতো। গত দুই মাসে তাদের বিরুদ্ধে পল্ল­বী থানায় ছয়টি মামলা হয়েছে। নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে তিনি জানান।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে এমএ আউয়াল এবং সাবেক মেজর মোস্তফা কামালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। সাহিনুদ্দিন হত্যায় দুই গ্রুপেরই যোগসাজশ থাকতে পারে। তবে মামলায় মেজর গ্রুপের কাউকে আসামি করা হয়নি।

এ বিষয়ে র‌্যাব পরিচালক কমান্ডার আল মঈন বলেন, আউয়ালসহ যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা প্রাথমিকভাবে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাবেক মেজর মোস্তফা কামালেরও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে আমরা শুনেছি। তাই এ বিষয়টিও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সাহিনুদ্দিনরা ওই এলাকার স্থানীয় লোক। আউয়াল সেখানে প্রকল্প শুরুর পর ২০০৪ সাল থেকেই সাহিনুদ্দিন পরিবারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সরকারি জমি দখলের পাশাপাশি সাহিনুদ্দিন পরিবারের জমিও দখল করতে চান আউয়াল। কিন্তু সাহিন তাতে বাধা দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকলেও কখনো কখনো তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।

র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা এবং র‌্যাব-৪ এর অভিযানে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার রাত তিনটার দিকে ভৈরব সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমএ আউয়াল এবং বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে পটুয়াখালি থেকে জহিরুল ইসলাম বাবুকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবি মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মানস কুমার পোদ্দার জানান, সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন বেপারী ও তার সহযোগী রকিকে বুধবার রাতে পল্ল­বী ও রায়েরবাগ থেকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা মিরপুর জোনাল টিম।

গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আহসান খান জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় যাত্রাবাড়ী থানার রায়েরবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বদানকারী সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। সুমনের দেওয়া তথ্যমতে পল্ল­বী থানার স্কুল ক্যাম্প কালাপানি এলাকা থেকে অপর অভিযুক্ত রকিকে গ্রেফতার করা হয়।

সুমন বাহিনীর সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, এই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ১০-১২টি মামলা আছে। অর্ধশতাধিক জিডি আছে। বেশ কয়েকবার তাদের গ্রেফতার করা হলেও জামিন পেয়ে তারা আবারও অপকর্মে লিপ্ত হয়। সাহিনুদ্দিনকে কোপানোর ঘটনায় মানিক এবং মনিরের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এই মানিক ও মনিরকে মাদক ও ডাকাতির মামলায় তিন মাস আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সুমনকেও এক মাস আগে গ্রেফতার করা হয়ছিল। কয়েকদিন আগে সে জামিন পেয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৬ মে পল্ল­বীতে নিজ শিশু সন্তানের সামনে চাপাতি ও রামদাসহ অন্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে সাহিনুদ্দিনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাহিনুদ্দিনের মা আকলিমা বাদী হয়ে পল্ল­বী থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি, ইসলামি গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এবং তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব এমএ আউয়ালসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া আরও ১৪-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। মামলায় এমএ আউয়াল ছাড়া আসামি হিসেবে অন্য যাদের নাম উল্লে­খ করা হয়েছে, তারা হলেন- আবু তাহের, সুমন, মুরাদ, মানিক, শফিক, টিটু, রাজ্জাক, শফিক (২), কামরুল, কিবরিয়া, দিপু, মরণ আলী, লিটন, আবুল, ন্যাটা সুমন, কালু ওরফে কালা বাবু, বাবু ওরফে বাইট্যাব বাবু ও বাবু ওরফে ইয়াবা বাবু।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2009-2022 bddhaka.com  # গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Developed BY RushdaSoft