মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১২:২২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গোমস্তাপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে আলোচনা সভা স্কুল বালক-বালিকাদের দিনব্যাপী দাবা প্রতিযোগিতা তোমাদের মানুষের মতন মানুষ হতে হবে : এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে মেয়র মোখলেস ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে জেলা প্রশাসনের আর্থিক সহায়তা ২ নভেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ মনি স্বদেশ বিচিত্রা সম্মাননায় ভূষিত হবেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালার সমাপনী পাটচাষি সমাবেশ : উৎপাদনে ভূমিকা রাখায় ক্রেস্ট পেলেন ১০ চাষি পরীক্ষার ফল ভালো করলে সবই করে দেয়া হবে : শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজে ওদুদ এমপি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২২৭ জাতের আম নিয়ে আম মেলা শিবগঞ্জে ভিজিএফের চাল পেল ৭৩৮৩৫টি অসহায় পরিবার

দ্রুত স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি : সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৫৯ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ : প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা খুব তাড়াতাড়ি স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে বলেছেন, করোনার কারণে বন্ধ থাকা স্কুল-কলেজ শীঘ্রই খুলে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আমরা খুব তাড়াতাড়ি স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার জন্য ইতোমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছি। সেই ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা কর্মরত আছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের যেন টিকা দেয়া হয় সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সকলকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত চলতি জাতীয় সংসদের সিরাজগঞ্জ-৬ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক শিল্প উপমন্ত্রী হাসিবুর রহমান স্বপনের মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদে আগের দিন এক সংসদ সদস্যের শোক প্রস্তাবের পরদিন (বৃহস্পতিবার) আরেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের মৃত্যুর শোক নিয়েই যেন চলতে হচ্ছে। শোকের ব্যথা যেন যাবে না, একের পর এক শোক নিয়েই যেন চলতে হচ্ছে।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে শোক প্রস্তাবের ওপর আরও আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, সরকারদলীয় হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক সরকারদলীয় চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ ও বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ।

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুলের ছেলেমেয়েদের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কতগুলো নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা মেনেই টিকা দেয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি। যার জন্য কিছু ফাইজার টিকা ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছে, আরও পৌঁছাবে। মডার্নার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। তাছাড়া অন্যান্য টিকাও আসছে। ইতোমধ্যে টাকাও পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ৬ কোটি টিকার টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে টিকা আসতে থাকবে। কারণ এগুলো সংরক্ষণ পরিকল্পনা আমাদের নিতে হচ্ছে। এগুলো আমরা করে যাচ্ছি।

সংসদ নেতা বলেন, টিকার কোন সমস্যা নেই। যেখান থেকে যতভাবে হোক আমরা টিকা নিয়ে আসছি। খুব তাড়াতাড়ি স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শিক্ষকদের টিকা দেয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং তাঁদের পরিবারকেও যেন টিকা দেয়া হয়। আমরা স্বাস্থ্যকর্মীসহ তাদের বাড়ির কাজের মানুষ, গাড়ির চালক ও পরিবারের সদস্য সবাই যেন টিকা পায় সেই ব্যবস্থাটাও নিচ্ছি। যাতে করে কোনমতে এই সংক্রমণটা না হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, করোনা থেকে ভাল হওয়ার পরও নানা জটিলতা রয়ে যায়। যাদের অন্যান্য রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে করোনা ঝুঁকি বাড়ায়। এজন্য সবাইকে নিজের ভাল নিজেকে বুঝে চলতে হবে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, কখনও করোনা একেবারেই কমে যাচ্ছে, আবার নতুনভাবে নতুন শক্তিতে এই ভাইরাস আসছে। সেক্ষেত্রে আমরা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। টিকা দেয়ার পর অনেকের করোনা হয়। তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার করে যাচ্ছি। আমরা জানি অনেকের বক্তব্য বা তারা অনেক অনেক কিছুই বলেন। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা যদি দেখেন ও অন্য দেশের সঙ্গে যদি তুলনা করেন; আমাদের এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, সেই জায়গায় এটা নিয়ন্ত্রণে আমরা যেভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি, অনেক উন্নত দেশও তা নিতে পারেনি। এটাই হলো বাস্তবতা।

তিনি বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা সবসময় আছে। আমরা শুরু থেকেই সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। এখানে আমি বলব যার যার নিজেরও সজাগ থাকা, নিজেকে সুরক্ষিত রাখা এবং নিজে সাবধানে থাকা; স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সেগুলোর দিকেও সকলকে দৃষ্টি দিতে হবে। করোনার প্রকোপ কমলেও সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এখন ডেঙ্গুর প্রকোপও বেড়ে যাওয়ায় সকলকে ঘর, বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসিবুর রহমান স্বপনের কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করার প্রসঙ্গ টেনে সংসদ নেতা বলেন, কোন আপনজন ছাড়া বাইরের কারো থেকে যদি কিডনি নিয়ে ট্রান্সপ্লান্ট করানো হয়, তা শরীর সাধারণত গ্রহণ করে না। এজন্য অনেকেই টিকতে পারে না। অনেকেই এভাবে ট্রান্সপ্লান্ট করায় কিন্তু এটা বেশিদিন টিকে না। যদি আপন ভাই, বোন হয়, আর অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়। কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের অনেক কিছু দেখতে হয়।

প্রয়াত সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপনের রুহের মাগফিরাত কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মীবান্ধব নেতা ছিলেন হাসিবুর রহমান স্বপন। মানুষের জন্য কাজ করার আন্তরিকতা তাঁর ছিল। তাঁর এই অকালমৃত্যু দেশের জন্য ক্ষতি। এই সংসদে বেশ কয়েকজন সদস্যকে হারাতে হয়েছে। বারবার শোক প্রস্তাব নিতে হচ্ছে, এটা নিয়ে বলার ভাষা নেই।

আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কষ্টের ভেতর দিয়ে আমাদের সবাইকে যেতে হচ্ছে। এই পার্লামেন্টে আসার পর আমরা অনেককে হারিয়েছি। গতকালই (বুধবার) এই অধিবেশনে একজনের শোক প্রস্তাব নিতে না নিতেই আজ (বৃহস্পতিবার) খবর পেলাম হাসিবুর রহমান স্বপন আর নেই। তাঁর কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের পর আমি তাঁকে বলেছিলাম সাবধানে থাকতে। কিন্তু তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনবান্ধব। তিনি যদি কিডনি ডায়ালাইসিস করতেন, তাহলে হয়ত অনেকদিন বেঁচে থাকতেন। সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুরে আমরা তাঁর সহযোগিতায় অনেক কাজ করেছি। বুধবারই তাঁর বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি, আজই (বৃহস্পতিবার) চলে গেলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। অনেকে আপনজনের মরদেহ দাফন করেনি, ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা সেই লাশ দাফন করেছে। মানুষের ঘরে ঘরে অক্সিজেন সরবরাহ করা, খাবার পৌঁছে দেয়ার কাজ তারা করছে। হাসিবুর রহমান স্বপনও নিজের শারীরিক অবস্থার কথা চিন্তা না করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা জনগণের জন্য কাজ করে তাদের মৃত্যুটা দেশের জন্য, মানুষের জন্য ক্ষতির। করোনার প্রকোপ এখন কমেছে। কিন্তু সবাইকে সচেতন থাকতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ভারতে চিকিৎসাধীন ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার জন্যও সবার কাছে দোয়া চান।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর উত্থাপিত শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। পরে হাসিবুর রহমান স্বপনের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল। রেওয়াজ অনুযায়ী চলমান সংসদের ওই সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হয়। অধিবেশন আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় আবার বসবে।

স্পীকারসহ অন্যান্যদের শোক ॥ সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি। এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা ও তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। আরও শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়া, চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এবং অপর এক শোক বার্তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2009-2022 bddhaka.com  # গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Developed BY ThemesBazar.Com