সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:৫২ অপরাহ্ন

ফেলানী হত্যার আজ ১০ বছর, ন্যায় বিচারের আশায় বাবা-মা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৪৬৭ বার পঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা : ঘাতকের গুলিতে সীমান্তে প্রাণপ্রিয় সন্তানের নিষ্প্রাণ দেহ কাঁটাতারে ঝুলে থাকার দৃশ্য এখনও তাড়া করে বেড়ায় ফেলানীর বাবা-মাকে। তবে সন্তানের গুলিবিদ্ধ নিথর দেহ কাঁটাতারে ঝুলে থাকার দৃশ্যের বেদনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এক দশক ধরে ঝুলে থাকা বিচার প্রক্রিয়া। ন্যায় বিচার পাবার আশায় তারা তাকিয়ে আছেন ভারতের উচ্চ আদালতের দিকে। তাদের প্রত্যাশা, ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ফেলানীকে হত্যাকারী বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের শাস্তি মিলবে। হবে ন্যায় বিচার। ফেলানী হত্যার দশম বার্ষিকীতে এমনটাই জানিয়েছেন তার বাবা নুর ইসলাম ও মা জাহানারা বেগম।বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারী গ্রামে নিজ বাড়িতে ফেলানীর রূহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করেছে তার পরিবার। এলাকায় মুদি দোকান চালিয়ে সংসার চালান ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ দশ বছরেও ফেলানীর স্মৃতি এতটুকু মুছে যায়নি। তার রূহের মাগফেরাতে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছি। তবে ফেলানীর আত্মা শান্তি পাবে যখন ঘাতক অমিয় ঘোষের শাস্তি মিলবে। আমার বিশ্বাস ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আমাদের মেয়ে হত্যার সুবিচার করে ঘাতককে শাস্তি দেবে, এই আশা নিয়েই বেঁচে আছি।’২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি হালকা কুয়াশা ঘেরা সকালে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বাবা নুর ইসলামের সঙ্গে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে ভারত থেকে দেশে ফিরছিল ফেলানী। তার বাবা আগে সীমান্ত অতিক্রম করলেও পেছনে থাকা ফেলানীকে লক্ষ্য করে বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ গুলি করেন, ঘটনাস্থলেই মারা যায় কিশোরী ফেলানী। ১৪ বছর বয়সী মেয়েটির মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে ছিল প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। এরপর দুই দিন দফায় দফায় পতাকা বৈঠকের পর বিএসএফ মরদেহটি বিজিবির কাছে ফেরত দেয়। পরে তাকে দাফন করা হয় নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারী গ্রামের পৈতৃক ভিটায়।
ভারত সরকার ফেলানীর হত্যাকাণ্ডটি গতানুগতিক এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এ হত্যাকাণ্ডেরর প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত বিচারে চাপ দেওয়া হয়। পরে ২০১৩ সালের ১৩ই আগস্ট ভারতে ১৮১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদর দফতরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার শুরু হয়। ওই বছরের ৬ই সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্যকে নির্দোষ ঘোষণা করে রায় দেয় নিজ বাহিনীর আদালত। ফেলানীর বাবা-মা রায় প্রত্যাখ্যান করলে ২০১৪ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর পুনর্বিচার কার্যক্রম শুরু করে ভারত। পরের বছর ২রা জুলাই অভিযুক্তকে আবারও নির্দোষ ঘোষণা করে রায় দেয়া হয়।
জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স আদালতের পুনর্বিচারের রায় প্রত্যাখ্যান করে ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম ও কলকাতার মানবাধিকার সংগঠন ‘বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চে’র সাধারণ সম্পাদক কিরিটি রায় যৌথভাবে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করলে ২০১৫ সালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানি শেষে রিট আবেদনটি গ্রহণ করে বিবাদীদের জবাব দেয়ার নোটিশ জারির আদেশ দেন। পরবর্তীতে বিবাদীরা তাদের জবাব দাখিলও করেছেন। কিন্তু এরপর তারিখের পর তারিখ পরিবর্তন হয়েছে,  কিন্তু শুনানি এখনও হয়নি।
এর আগে ২০১৩ সালের ২৭শে আগস্ট ফেলানীর বাবা ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী একটি রিট আবেদন করেন ভারতের উচ্চ আদালতে। আজ অবধি সেটিরও কোনও শুনানি হয়নি ।
বাংলাদেশ সরকারের কাছে ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম ও মা জাহানারা বেগম অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘সরকার যেন রাষ্ট্রীয় যোগাযোগের মাধ্যমে ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচারে সহায়তা করে। তাদের প্রত্যাশা, বিএসএফের জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স আদালতের বিচারে নিজ বাহিনীর সদস্য ঘাতক অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয়া হলেও ভারতের উচ্চ আদালতে তারা ন্যায় বিচার পাবেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2009-2022 bddhaka.com  # গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Developed BY ThemesBazar.Com