মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১২:১৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গোমস্তাপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে আলোচনা সভা স্কুল বালক-বালিকাদের দিনব্যাপী দাবা প্রতিযোগিতা তোমাদের মানুষের মতন মানুষ হতে হবে : এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে মেয়র মোখলেস ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে জেলা প্রশাসনের আর্থিক সহায়তা ২ নভেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ মনি স্বদেশ বিচিত্রা সম্মাননায় ভূষিত হবেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালার সমাপনী পাটচাষি সমাবেশ : উৎপাদনে ভূমিকা রাখায় ক্রেস্ট পেলেন ১০ চাষি পরীক্ষার ফল ভালো করলে সবই করে দেয়া হবে : শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজে ওদুদ এমপি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২২৭ জাতের আম নিয়ে আম মেলা শিবগঞ্জে ভিজিএফের চাল পেল ৭৩৮৩৫টি অসহায় পরিবার

তানোরে বিএনপি-আওয়ামী লীগ বিপরীতমুখী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৩১৪ বার পঠিত

আলিফ হোসেন,তানোর : রাজশাহীর তানোর পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিপরিতমুখী অবস্থান বিরাজ করছে। যেখানে ভোটের মাঠে ঐক্যবদ্ধ বিএনপির বিপরীতে অগােছাল আওয়ামী লীগ অনেকটা পিছিয়ে। পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ শফিকুল হক মিলনের দিকনির্দেশনায় তানোর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র মিজানুর রহমান মিজানের তৎপরতায় বিএনপির রাজনীতিতে রাতারাতি হয়েছে নাটকিয় পরিবর্তন ও ফিরে এসেছে প্রাণচান্চল্য। বহুধারায় বিভক্ত নেতাকর্মীরা ঐক্যর প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে তাদের মধ্য বিরাজমান দীর্ঘদিনের মান-অভিমান ভুলে একে-অপরকে কাছে টানছে এতে তাদের মধ্য বিরাজমান দীর্ঘদিনের ক্ষোভ-অসন্তোষের বরফ গলতে শুরু করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে, চাওয়া-পাওয়া ও মান-অভিমানসহ নানা কারণে যেসব নেতাকর্মীরা এতোদিন নিস্ক্রীয় ছিল তারাও মিজানের আহবানে সাড়া দিয়ে নবউদ্দ্যেমে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছে, তারাও মিজানকে পচ্ছন্দ করে না, তবে এই নির্বাচন বিএনপির অস্থিত্ব রক্ষার লড়াই, তাই তারা মিজানকে নয় বিএনপির অস্থিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে ধানের শীষ প্রতিককে বিজয়ী করতে চাই। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করে বিশিস্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক আবুল বাসার সুজন আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করে ভোটের মাঠে সম্ভবনাময় অবস্থান গড়ে তোলেন। এখানে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর জনপ্রিয়তা ও উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না নির্বাচনী কৌশল কাজে লাগাতে পারলেই নৌকার নিরঙ্কুশ বিজয় সময়ের ব্যাপার ছিল মাত্র। কিন্ত্ত আবুল বাসার সুজনকে বঞ্চিত করে এমপিবিরোধী বলে পরিচিত ইমরুল হককে মনোনয়ন দেয়া হয়। এদিকে স্থানীয় সাংসদের নির্দেশে আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী নৌকার বিজয় ঘটাতে ঐক্যবদ্ধভাবে শপথ নেয়। কিন্ত্ত মনোনয়ন পাবার পর ইমরুল হক স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান, সুজন প্রমুখদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এমপিবিরোধীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে মুলত এখান থেকেই ইমরুলের সঙ্গে নেতাকর্মীদের মতবিরোধের সুত্রপাত হয়েছে, পাশাপাশি রাব্বানী-মামুন মাঠে নামায় ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের গোছানো মাঠ তছনছ হয়েছে বলে মনে করছেন তৃণমুল। তৃণমুলের ভাষ্য, দেশে এমপি নির্ভর রাজনীতিতে এমপিকে উপেক্ষা করে ইমরুল কি বোঝাতে চাই, মেয়র না হতেই এমন মেয়র হলে কি করবেন, তাছাড়া কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পেয়ে তিনি কালীগন্জহাট ও গোল্লাপাড়ার মাদকসেবী দুই বখাটে যুবককে নিয়ে রাজত্ব করেছিল বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণের অভিমত, বিগত দিনে এমপির (নৌকা) বিপক্ষে, উপজেলা নির্বাচনেও ময়না (নৌকা) বিরোধিতা এমন মুন্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার বিজয় ঠেকাতে বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়েছেন রাব্বানী-মামুন গ্রুপ আবার তানোর পৌরসভা নির্বাচনে তারাই নৌকার পক্ষে ভোট চাইছে। তার মানে কি তারা যাকে সমর্থন করবেন তারাই কেবল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকার লোক আর অন্যরা-? তারা যখন যেমন খুশি তেমন নৌকা নিয়ে ছেলে খেলা করবেন এটা কি সার্কাসের জোকার না নৌকা কোনো জনবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিক। অথচ এমপি, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে এরা ভোট করেছেন আবার তানোর পৌরসভা নির্বাচনে এরাই নৌকার ভোট চাচ্ছে, মানুষ কি এতোই বোকা যে এরা যেমন নাচাবেন তেমনি তারা নাচবেন-? এদিকে রাজনৈতিক কারণে নেতারা মনে কস্টে নিয়েও তাদের মেনে নিলেও তৃণমুলের কর্মী-সমর্থকগণ তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।কারণ তারা যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও আদর্শিক আওয়ামী লীগ হয়, তাহলে প্রথমেই তাদের করনীয় ছিল মুন্ডুমালায় নৌকার বিজয় ঘটাতে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমে কাজ করা, কেননা মুন্ডুমালায় জয়-পরাজয় তানোর পৌরসভার ভোটে বড় প্রভাব পড়বে। অথচ তারা মুন্ডুমালায় নৌকার বিরুদ্ধে আর তানোর পৌরসভায় নৌকার পক্ষে ভোট চাইছে সেটা কি সাধারণ মানুষ বোঝে না।জানা গেছে,উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক (দায়িত্বহীন) আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সম্ভবনাময় গোছানো ভোটের নস্টের অভিযোগ উঠেছে। তৃণমুলের ভাষ্য, এমপির বিরোধীতা করে পৃথক বলয় সৃস্টির লক্ষ্যে দায়িত্বশীল পদে থেকেও তারা সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কোনো ভুমিকা তো রাখেইনি বরং জামায়াত-বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে সৃস্টি করেছিল দলীয়কোন্দল, সাংগঠনিক অবস্থা ছিল নাজুক, ভেঙ্গে পড়েছিল চেইন অব কমান্ড, হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছিল। ফলে সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগে তৃণমুলের দাবির মুখে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানিকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে সিনিয়র সহসভাপতি খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দায়িত্ব থেকে অবাহতি দিয়ে যুগ্ম-সম্পাদক রাম কমল সাহাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2009-2022 bddhaka.com  # গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Developed BY ThemesBazar.Com