সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ০৪:৫৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাসিক মেয়রের সাথে পটিয়া পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ কুষ্টিয়ায় শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষ : আহত ১০ বরিশালে পুলিশ-শিক্ষার্থী দফায় দফায় সংঘর্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ, রাজশাহীতে যুবদল নেতাসহ আটক ৫ কোটা সংস্কার : সড়ক অবরোধ দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইসলামপুরে রাস্তা প্রসস্তকরণ ও উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন নাচোলে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ মৌখিক পরীক্ষা : চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি উত্তম চর্চা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩
  • ৫৯ বার পঠিত

বিডি ঢাকা অনলাইন ডেস্ক

 

 

শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি আদর্শ, সমৃদ্ধ ও উন্নত জাতি গঠনে মানসম্মত শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। যেকোনো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। এ অকাট্য সত্য উপলব্ধি করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাংবিধানিকভাবে প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করেছিলেন। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও একমুখী শিক্ষা ভাবনা মাথায় রেখে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পরপরই গঠন করেন বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন ১৯৭৪; যা কুদরত-ই-খুদা কমিশন নামে পরিচিত। শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার অন্যতম পদক্ষেপ ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ। বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে একসঙ্গে প্রায় ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন; যা এ দেশের মানুষের জন্য মুক্তির বার্তা নিয়ে আসে। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেন (তথ্যসূত্র-ব্যানবেইস)। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা দেন ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল এক ধাপ উন্নীত করেন। এ পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষায় যত উন্নতি ও অগ্রগতি হয়েছে প্রায় সবই বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কন্যার নেতৃত্বেই হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের গড়ে তোলার মহান দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা হলেন স্কুলের সম্মানিত শিক্ষকম-লী। ফলে আন্তরিক, নিবেদিতপ্রাণ ও যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের নিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু আমরা দেখতে পাই এ সকল নিয়োগে সমাজের কিছু লোক সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীদের বিভ্রান্ত করে অবৈধ ফায়দা লুটে। অযোগ্য সুযোগসন্ধানী কিছু চাকরিপ্রার্থী এ সুযোগের সন্ধানেও থাকে বটে। সমাজ ও পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকগণের মাঝে একটি ভুল বার্তা পৌঁছায় যে অবৈধ যোগাযোগ ও অনৈতিক লেনদেন ছাড়া চাকরি কপালে জুটবে না। সুতরাং নিয়োগ কর্তৃপক্ষের কতিপয় সক্রিয় ও উদ্ভাবনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এ সকল অপতৎপরতা অনেকাংশে বন্ধ করে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা সম্ভব।
একজন সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীর সবচেয়ে ভীতি এবং অনিশ্চয়তার জায়গা হচ্ছে মৌখিক পরীক্ষায় নিজেকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা। পরীক্ষার ক্ষণ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বিভিন্ন ধরনের সংশয় ও দুশ্চিন্তা যেন ভর করে বসে তাঁদের মাঝে। মনের মধ্যে ভাবনা তৈরি হতে থাকে মেধাবী ও অসহায়দের সঠিক মূল্যায়ন হবে তো?
এ কথা অনস্বীকার্য যেকোন প্রতিযোগিতাপূর্ণ চাকরির পরীক্ষায় চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে একধরনের মানসিক চাপ বিরাজ করে। বিশেষ করে সরকারি চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় এ ধরনের চাপ প্রার্থীর যোগ্যতা প্রতিফলনে বেশিরভাগ সময়েই মূল অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। সমাজে অনেকের মাঝে একধরনের বদ্ধমূল ধারণা রয়েছে যে যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন ছাড়া সরকারি চাকরি হয় না। শতভাগ মেধা-যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি হবে কি না, তদবির করতে হবে কি না, মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পরে পড়বে কি না ইত্যাদি বিষয়ে চাকরিপ্রত্যাশী ও অভিভাবক মহলে আলোচনা হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবে তাদের মধ্যে একধরনের হতাশা ও দুশ্চিন্তা কাজ করে।
এ সকল বিষয় মাথায় রেখে জেলা প্রশাসন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার সময়কালে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হাতে নেয়। নিয়োগ প্রক্রিয়াটি যেন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, দুর্নীতিমুক্তভাবে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার নিরিখে হয় সে লক্ষে সকল স্টেকহোল্ডার নিয়ে বেশকিছু মিটিং ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এ বিষয়ে প্রথমে জেলা কোর কমিটির সভায় বিস্তারিত আলোচনা ও সুবিন্যস্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিটি পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, শিক্ষকম-লী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সাথে ৬টি মিটিং করা হয়। জেলা ও উপজেলার সমন্বয় সভাতে সকল দপ্তরের সাথে আলোচনা করা হয়। এ সকল মিটিং এবং আলোচনার মাধ্যমে প্রশাসনের বার্তা সমাজের প্রত্যেক প্রান্তে পৌঁছে দেয়া হয় যার ফলে সমাজের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে আমূল পরিবর্তন হয়।
মোট ১৯৭২ জন পরীক্ষার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। প্রতিদিন ৭০ (সত্তর) জন পরীক্ষার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পূর্বে জেলা প্রশাসক স্বয়ং মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাগণকে সাথে নিয়ে মৌখিক পরীক্ষার যাবতীয় বিষয়ে প্রার্থীদের সাথে ৩০ মিনিটের একটি প্রাক-মৌখিক সেশন পরিচালনা করেন। এ কার্যক্রমের ফলে মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে প্রবেশের পূর্বেই এক ধরনের Ice-breaking হয় এবং প্রার্থীরা মানসিক চাপ ও ভীতি দুটোই কাটিয়ে উঠে সহজ, সাবলীল ও আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে উঠে; যার সফল প্রতিফলন ঘটে পরীক্ষা বোর্ডে।
চূড়ান্তভাবে সুপারিশকৃত ৫৮৯ জন প্রার্থীর ডোপ টেস্ট ও অন্যান্য বিষয় নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর সহায়তায় জেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের মাঝে উক্ত উদ্যোগের বিষয়ে একটি Impact Analysis করা হয়। শিক্ষকগণ জানান যে, তারা বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছেন প্রাক মৌখিক পরীক্ষা থেকে। সামগ্রিকভাবে এ প্রক্রিয়া পুরো মৌখিক পরীক্ষায় মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
চাকরিপ্রাপ্তরা জানান, ‘আলোকবর্তিকার ভূমিকায় আমরা প্রশাসনকে দেখতে পাই; আর এতে আমাদের ভেতরকার সব সংশয় ও ভীতি আস্তে আস্তে কেটে যেতে থাকে এবং পরীক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের মাঝে একধরনের স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করে।’ জেলা প্রশাসন সাধারণ পরীক্ষার্থীদের সাথে পরীক্ষার আগ মুহূর্তে ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষা ভীতি ও নম্বর বণ্টনসহ পরীক্ষায় শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয় যা পরীক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে মর্মে চাকরিপ্রাপ্তরা তাদের পর্যবেক্ষণে জানান। দুষ্কৃতিকারীরা অবৈধ কোনো সুযোগ-সুবিধা নিতে পারেনি। নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে প্রকৃত মেধাবীদের জয়জয়কার অবস্থা দেখে সবাই উজ্জীবিত হন। তারা জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগে সত্যিকার অর্থেই অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
জেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস বেড়েছে মর্মে তারা জানিয়েছেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন মানুষের কাছে সব সময়ে আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২০ এর পরীক্ষা গ্রহণসহ সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া সমাপ্তকরণ ছিল জেলা প্রশাসনের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ সফলতা দেখিয়েছে; যা অভিভাবক, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। আদর্শ সমাজ ও দেশ গঠনে জেলা প্রশাসনের এ অভিনব উদ্যোগ একঝাঁক তরুণ ও মেধাবী শিক্ষক উপহার দিয়েছেন। এ ধরনের নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও উপযুক্ত প্রার্থী বাছাইয়ে জেলা প্রশাসন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ যুগান্তকারী কার্যক্রম সারাদেশে অনুকরণীয় হতে পারে মর্মে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল সহকারী শিক্ষক আশা ব্যক্ত করেন।

এ কে এম গালিভ খাঁন : জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2009-2022 bddhaka.com  # গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Developed BY ThemesBazar.Com