মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন

রাজনীতির এক মহানায়কের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭২ বার পঠিত
রাজনীতির এক মহানায়কের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন
ফাইল ফটো

রাজনীতির এক মহানায়কের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আজ। আগমনী বার্তা পেয়ে গোটা জাতি তার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। নেতা আসবেন; আগামীতে জাতির উন্নয়ন, অগ্রগতি ও দেশ পরিচালনার বার্তা দেবেন। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়ার মানুষ রাজধানীতে এসেছেন নেতার মুখের বাণী শোনার জন্য। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঢাকামুখী মানুষের ¯্রােত থামেনি। সবার উদ্দেশ্য: আগামীর বাংলাদেশের রাজনীতির মহানায়ক, তারুণ্যের স্বপ্ন পুরুষ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে একনজর দেখা।
তিনি দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় ধরে বিদেশে (লন্ডন) থাকতে বাধ্য হয়েছেন। এত দূরে থেকেও রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরের মানুষের খোঁজখবর নিয়েছেন; আমজনতার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ৫৪ বছর আগে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি যেমন শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাগত জানাতে লাখো মানুষ ঢাকায় বিনিদ্র রজনী জেগে ছিলেন; তেমনি জাতির আগামীর কা-ারি তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে লাখ লাখ মানুষ অধীর আগ্রহে ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা করছেন।

হিন্দুত্ববাদী ভারতের চানক্যনীতিতে ক্ষমতা দখল করা ফখরুদ্দিন-মঈন ইউ আহমদের নির্যাতনের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে চিকিৎসার জন্য একদিন মাতৃভূমি ছেড়েছিলেন। দেশ তখন ছিল হায়েনার কামড়ে জর্জরিত; জনগণের ভোটের অধিকার ছিল নির্বাসিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দেশ এখন হায়েনামুক্ত। দীর্ঘ দেড় যুগ পর তিনি স্বদেশে ফিরছেন মহানায়কের বেশে। তারেক রহমান এখন আর শুধু বিএনপির নেতা নন; তিনি দেশের ডান-বাম-মধ্যপন্থি সব রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সব মত-পথ ও শ্রেণিপেশার মানুষের নেতা। আগামী দিনের জাতির এই কা-ারি ইতোমধ্যেই লন্ডন থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। আর তাকে বরণ করতে কয়েক লাখ মানুষ গতকাল থেকে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় অবস্থান করছেন। রাজনীতির মহানায়ক তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সজ্জিত রাজধানীতে মহোৎসব চলছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের মাটিতে পা রেখে তিনি কী বার্তা দেন সেটি শোনার জন্য গোটা জাতি উদগ্রীব।

প্রায় দেড় যুগের অপেক্ষা ফুরোচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীসহ জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষের। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর তিন মাস ১৪ দিনের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে জন্মভূমিতে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবেন তিনি। দীঘদিন ধরে যে নেতার জন্য মা-মাটি ও দেশের মানুষ প্রতিক্ষায় ছিলেন, আজ সেই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। বছর, মাস, দিন অতিক্রম করে এখন কেবল কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা। ঐতিহাসিক এই মাহেন্দ্রক্ষণে প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত গোটা বাংলাদেশ। সারা দেশের শহরে-বন্দরে, গ্রামে-গঞ্জে, মাঠে-ঘাঠে, হাটে-বাজারে সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। তার এই প্রত্যাবর্তনে রাজধানী ঢাকা যেন পরিণত হয়েছে উৎসবের নগরীতে। সারাদেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ এসেছেন পৌঁছেছে ঢাকায়। গত কয়েক দিন ধরেই বাস, ট্রেন, লঞ্চ, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ যে যেভাবে পেরেছেন প্রিয় নেতা তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে এবং এক পলক দেখার আশায় ছুটে আসছেন। ঢাকায় পৌঁছেই বিভিন্ন জেলা-উপজেলাভিত্তিক নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে স্বাগত মিছিল, স্লোগানে উত্তাল করে তুলেন অভ্যর্থনাস্থলসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা।
জানা গেছে, তারেক রহমান বিমানবন্দরে পৌঁছেই ৩০০ ফুটে তার জন্য আয়োজিত গণ-অভ্যর্থনা বক্তব্য রাখবেন, সেখান থেকে তিনি যাবেন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাকে দেখতে। এদিকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে দল ও সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতির কারণে যাতে কোনো ধরনের জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয় সে জন্যও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এরপরও যে দুর্ভোগের শিকার হবেন এ জন্য রাজধানীরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে দলটি।
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, দেড় যুগ পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী, সমর্থক ও সর্বসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ, কৌতূহল ও আবেগের সঞ্চার হয়েছে। এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন নেতার দেশে ফেরা নয়; বরং সর্বজনীন প্রত্যাশা ও আকাক্সক্ষার মেলবন্ধন, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জনসমাগমের সম্ভাবনা। তারা জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ৫০ লাখের বেশি মানুষের জনসমাগম ঘটবে এদিন। যা কেবল বিগত দিনেরই নয়, আগামী কয়েক দশকের জন্যই ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তারেক রহমানের আগমনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে সারাদেশ থেকে যেমন ঢাকায় মানুষের ঢল নেমেছে, তেমনি বিএনপিও আয়োজনের কোনো কমতি রাখেনি। লাখ লাখ নেতাকর্মীর জমায়েত, জনসমুদ্রে তারেক রহমানকে সংবর্ধনা প্রদানসহ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চায় দলটি। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারের পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। সংবর্ধনার জন্য ৩০০ ফুটে নির্মাণ করা হয়েছে মঞ্চ, সাজানো হয়েছে সংবর্ধনা স্থলের আশপাশ।

২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানকে গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হলেও মঙ্গলবার রাত থেকেই হাজার হাজার মানুষ ভিড় করতে থাকেন ৩০০ ফুটের সংবর্ধনাস্থলে। গতকাল সারাদিনই সেখানে থেমে থেমে স্বাগত মিছিল, স্লোগানে মাতিয়ে রাখেন নেতাকর্মীরা। আর রাত নামার আগেই সারা দেশ থেকে আসা লাখ লাখ নেতাকর্মীতে ভরে যায় ৩০০ ফুটের আশপাশের এলাকা।

গতকাল মঞ্চ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কুড়িল থেকে সংবর্ধনা মঞ্চের পরবর্তী অংশ পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে তারেক রহমানকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন রঙের ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। আর কুড়িল মোড় থেকে বেশ খানিকটা দূরে সড়কের উত্তর অংশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের বিশাল মঞ্চ। গতকাল সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে মঞ্চের মূল কাঠামোর কাজ। মঞ্চটি সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। মঞ্চের দুই পাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টে লাগানো হয়েছে মাইক।

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল থেকে তারেক রহমানের সংবর্ধনায় আসা যুবদল নেতা আক্তার হোসেন বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং আমাদের নেতাকে স্বাগত জানাতে এসেছি। আমরা বিশ্বাস করি, মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে আমাদের নেতা তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করবেন।

পটুয়াখালী জেলা মহিলা দলের সেক্রেটারি ফারজানা ইয়াসমিন রুমা বলেন, আমরা আগেই চলে এসেছি। আমাদের আরো নেতাকর্মী লঞ্চে রাতে পৌঁছাবে এবং অনুষ্ঠানে আসবেন। আমরা আমাদের নেতাকে ঐতিহাসিক স্বাগত জানাতে চাই।
গতকাল অভ্যর্থনা মঞ্চ পরিদর্শনে এসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, জনগণের কষ্ট লাঘব করার জন্যই তারেক রহমান দেশে আসছেন। তিনি বলেন, তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কত লোক হবে সেটি ধারণা করা যাচ্ছে না। ধারণার বাইরে লোক হবে।

নিরাপত্তার বিষয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, পৃথিবীর সব বড় বড় নেতাদেরই নিরাপত্তা ঝুঁকি বরবারই থাকে, এটি অস্বাভাবিক কিছু না। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব করছি, সরকারের সহায়তা চাওয়া হয়েছে, ওনারা যতটুকু পারবেন করবেন।জানা গেছে, আজ তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। দেশে ফেরার পর তাকে বিমানবন্দর থেকে স্বাগত জানাবেন দলের নেতাকর্মীরা। এরপর দলের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে ৩০০ ফিট এলাকায় সংবর্ধনা দেয়া হবে। সেখান থেকে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। এরপর তার গুলশানের বাসভবনে ফেরার কথা আছে।

যে পথে যাবেন তারেক রহমান : বিমানবন্দরে অবতরণের পর তারেক রহমান যে পথ ব্যবহার করে ৩০০ ফিটের সভাস্থলে পৌঁছাবেন, তার ম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ম্যাপে বলা হয়েছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রানওয়ে থেকে ভিআইপি গেট হয়ে আট নম্বর গেট, সেখান থেকে বেবিচক ভবন থেকে বাম দিকে জসিমউদ্দীন ইউটার্ন নিয়ে বিমানবন্দর স্টেশন হয়ে খিলক্ষেত ফ্লাইওভার দিয়ে ৩০০ ফিট সড়কের সভাস্থলে পৌঁছাবেন। আট নম্বর গেট এবং ক্যান্টিন গেটে দুটি মিডিয়া বুথ থাকবে। মিডিয়া পাস ছাড়া কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে বিমানবন্দর এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

সঙ্গে আসছেন যারা : গতকাল বুধবার লন্ডন (স্থানীয় সময়) সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় (বাংলাদেশ সময় মধ্য রাতে) ঢাকার উদ্দেশে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ২০২০ নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে রওনা হয়েছেন তারেক রহমান। ফ্লাইটটি সিলেটে এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতি দিয়ে আজ বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তারেক রহমানের সাথে একই বিমানে আসছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান, মিডিয়া টিমের আবু আবদুল্লাহ সালেহ, পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুর রহমান সানি।

ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি : তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে নানা প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীর বেশ কিছু সড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৫ ডিসেম্বর সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে প্রত্যাবর্তন করে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট) হয়ে এভারকেয়ার হসপিটাল হয়ে গুলশান বাসভবন আসবেন। তার চলাচলের রাস্তায় অভ্যর্থনাকারীদেরকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের গমনাগমনের সময় গাড়িবহর চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তা ছেড়ে দেয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

এছাড়াও আগামীকাল ভোর ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মহাখালী থেকে আব্দুল্লাহপুর এবং কুড়িল থেকে ম-ল পর্যন্ত পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে পরিহার করে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

দেশে ফেরার পর তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা, তার কর্মসূচি এবং নিরাপত্তার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পরই সেখান থেকে তিনি যাবেন ঢাকার ৩০০ ফিট সড়কে দলের আয়োজিত গণসংবর্ধনা সমাবেশে। ওই সমাবেশে তিনি একাই বক্তব্য দেবেন। সমাবেশ শেষ করে তারেক রহমান মায়ের সাথে দেখা করতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। দলের পাশাপাশি পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের রেড জোনে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে যাবেন শুধু দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা জানাতে রাজধানীতে যে জনসমাগম হবে, আয়োজনটি শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যতটুকু নিরাপত্তা শঙ্কা আছে সেই লক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তার নিরাপত্তায় এসএসএফের বিষয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটি সঠিক নয়। এছাড়া তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে সার্বিক আয়োজন ঘিরে বিমানবন্দর ও ৩০০ ফিট, উত্তরাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ২০টি মেডিক্যাল ক্যাম্প বসানো হচ্ছে। ৩০০ ফিট সড়কে মূল মঞ্চের কাছাকাছি ছয় শয্যার মেডিক্যাল ক্যাম্প এবং আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স থাকবে বলেও জানানো হয়।

এক্সপ্রেসওয়ে টোলমুক্ত : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে আজ বৃহস্পতিবার চার ঘণ্টার জন্য এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে টোলমুক্ত যান চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ঢাকা শহরে প্রবেশের জন্য বিমানবন্দর এলাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোলপ্লাজা সাধারণের জন্য টোলমুক্ত থাকবে। এ সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত সময়ে এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলকারী যানবাহনগুলো বিনা টোলে যাতায়াতের সুবিধা পাবে বলে জানানো হয়েছে।
নগরবাসীর কাছে বিএনপির ক্ষমা প্রার্থনা : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের কারণে সৃষ্ট অসুবিধার জন্য নগরবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে দলটি। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন কর্মসূচি তারেক রহমান সমর্থন করেন না বলেও জানানো হয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনদুর্ভোগ লাঘবেই রাজধানীর একপাশে ৩০০ ফুট সড়কের সার্ভিস লেনে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তারেক রহমান ছাড়া আর কেউ বক্তব্য দেবেন না। নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতায়াতে কাঞ্চন ব্রিজ ব্যবহারের।

শুক্র ও শনিবারের কর্মসূচি ঘোষণা : আজ দেশে ফেরার পর গণসংবর্ধনায় অংশ নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখান থেকে তিনি গুলশানের বাসভববনে যাবেন। এদিকে আগামীকাল শুক্রবার ও শনিবার তারেক রহমানের কর্মসূচিও প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার জুমার নামাজের পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে যাবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন তিনি। পরদিন শনিবার ভোটার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে যাবেন নির্বাচন ভবনে এবং জুলাই আন্দোলনে আহতদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন পঙ্গু হাসপাতালে। সেদিন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতেও যাবেন তারেক রহমান।

জনভোগান্তি কমাতে বিশেষ উদ্যোগ : তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানীতে ব্যাপক জনসমাগমের ফলে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ কমাতে ঢাকাজুড়ে ২০টি মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করেছে বিএনপি। যেখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক, প্যারামেডিক, ওষুধপত্র ও অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পগুলোর তালিকা জনসাধারণের সুবিধার্থে প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বক্তব্যস্থলের কাছাকাছি ছয় শয্যার একটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল থাকবে, যার সঙ্গে আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সংযুক্ত থাকবে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ ও কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।

যানজট এড়াতে রাজধানীতে প্রবেশের প্রধান পয়েন্টগুলোতে আলাদা বাস পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিমানবন্দরগামী ও বিদেশফেরত যাত্রীদের পাশাপাশি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের চলাচল নির্বিঘœ রাখতে কাকলী মোড়, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে এবং আব্দুল্লাহপুরে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হবে। এসব ডেস্ক থেকে মোটরবাইক এসকর্টের মাধ্যমে জরুরি যান চলাচল নির্বিঘœ রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। তারপরও কোনো অনিচ্ছাকৃত সমস্যার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে নগরবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2009-2022 bddhaka.com  # গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Developed BY ThemesBazar.Com