শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনলাইনে খেজুর রস বিক্রি নিপাহ ছড়ানোর শঙ্কা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৩ বার পঠিত

বাংলাদেশের শীত মানেই খেজুর রসে ভরা মাটির হাঁড়ি, যা শুধু ঐতিহ্য নয়—এক ধরনের আবেগও। একসময় গ্রামের সহজলভ্য এ পানীয় এখন শহুরে জীবনে এক দুর্লভ ও কাঙ্ক্ষিত উপাদানে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শীতের সকালে একগ্লাস কাঁচা খেজুর রস যেন হয়ে উঠেছে ঐতিহ্য আর বিলাসের প্রতীক। এ আকাঙ্ক্ষা কেন্দ্র করে সম্প্রতি একটি শ্রেণি অনলাইনে খেজুরের কাঁচা রস বিক্রির মাধ্যমে বিপজ্জনক এক বাজার তৈরি করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শত শত পেজ ও অ্যাকাউন্ট খেজুরের কাঁচা রস ‘নিরাপদ’, ‘নিষ্কলুষ’, ‘খাঁটি’ এমন দাবিতে বিক্রি করছে। রাজধানী ঢাকা, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, ফরিদপুর, রাজশাহী, গাজীপুরসহ দেশের নানা প্রান্তে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট—যেমন খাঁটি বিডি, জারিফ ফুডস, বিখ্যাত ৬৪, খেজুরতলা, সাধ্যের মধ্যে, ফ্রেশ ফুড হাট ডটকম—এসবের মাধ্যমে এসব রস বাজারজাত করা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনগুলোয় বলা হচ্ছে, বাদুড় বা পাখির সংস্পর্শ এড়াতে গাছে জাল দেওয়া হয় এবং রসটি ‘ফ্রেশ’ ও ‘এনার্জি ড্রিংক’ হিসেবে উপযোগী।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঁচা খেজুর রস মোটেও নিরাপদ নয়। বরং এটি নিপাহ ভাইরাস ছড়ানোর একটি প্রমাণিত উৎস। নিপাহ একটি প্রাণঘাতী ভাইরাস, যার কোনো কার্যকর চিকিৎসা নেই এবং এতে মৃত্যুহার প্রায় ৮০ শতাংশ। ২০০১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩৪৩ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭১ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৪ সালে আক্রান্ত পাঁচজনের সবাই মারা গেছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন বা অফলাইনে কাঁচা খেজুর রস ফ্রিজে রেখে সরবরাহ করা হলেও তা ভাইরাসমুক্ত হয় না। কারণ, ফ্রিজিংয়ের তাপমাত্রায় নিপাহ ভাইরাস সক্রিয়ই থেকে যায়। বাংলাদেশে যেসব রসে ভাইরাস আছে আর যেসবে নেই, তা নির্ণয়ের কোনো উপায় সাধারণ মানুষের নেই।

রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, কাঁচা রস পান করার ঝুঁকি অনেকটা নোংরা হাতে ভাত খাওয়ার মতো। সবাই অসুস্থ না হলেও আক্রান্তদের মৃত্যুর সম্ভাবনা অনেক বেশি। তার মতে, খেজুরের কাঁচা রস ফুটিয়ে পান করা, পিঠা বা গুড় তৈরিতে ব্যবহার করাই একমাত্র নিরাপদ উপায়।

সরকারি দপ্তর, বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করলেও বিভিন্ন পেজ ও অনলাইন ব্যবসায়ীরা এসব উপেক্ষা করে অবাধে বিপণন চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে জনসচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। কাঁচা খেজুর রসের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে জানানো, অনলাইনে এর বিক্রি বন্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

খেজুরের রসের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে চাইলে অবশ্যই নিরাপদভাবে উপভোগ করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2009-2022 bddhaka.com  # গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Developed BY ThemesBazar.Com