শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০২:২২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
অস্থির গরমে স্বস্তি যমুনা এসির শীতল পরশে ৬ মাস বন্ধের পর হিলি বন্দর ভারতীয় কাঁচামরিচ আমদানি শুরু এপ্রিল মাসে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি’র পুরস্কার পেলেন সাজ্জাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১১ দফা দাবিতে প্রতিবন্ধীদের মানববন্ধন এমপি আনার খুন : ঢাকায় আসছে ভারত পুলিশের স্পেশাল টিম রাজশাহীতে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের গুরুত্ব শীর্ষক সেমিনার রিকশা চালক বেশে মাদক অস্ত্রের ব্যবসা, অবশেষে র‌্যাবের হাতে ধরা রাজশাহীতে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের গুরুত্ব শীর্ষক সেমিনার রপ্তানিতে কমছে আয়ের ভরসা র‌্যাবের অভিযানে ভোলাহট থেকে হত্যা মামলার ৪ আসামি গ্রেপ্তার

অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানকের স্মৃতিতে নৃশংস ২১ আগস্ট

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১
  • ২৭৯ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ : আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন আপাদমস্তক রাজনীতিক তিনি। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে ভয়ানক গ্রেনেড হামলার দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে প্রতিদিনের সংবাদের সঙ্গে কথা বলেছেন সেই সময়ের যুবলীগ চেয়ারম্যান নানক।

২১ আগস্টের ভয়াবহ স্মৃতি নিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আমি তখন যুবলীগের চেয়ারম্যান। ঘটনার দিন সকাল থেকেই আমরা ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ছিলাম। সাংবাদিকরাও ছিলেন। বিকালে সমাবেশ। আওয়ামী লীগ তখন বিরোধীদলে। আওয়ামী লীগের সমাবেশ থাকলে সবসময় পুলিশের আনাগোনা থাকত। কিন্তু ২১ আগস্ট সমাবেশস্থলে কোনো পুলিশ দেখিনি। কী রকম যেন একটা গুমোট পরিস্থিতি। সন্দেহ আরো গভীর হয়, উদ্বেগ বাড়ে। প্রশ্ন জাগে, সমাবেশকে ঘিরে তাদের পরিকল্পনা কী? ’

নানক বলেন, ‘এর মধ্যে খবর এলো ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশে আসার কর্মসূচিটি বাতিল করা হয়েছে। শুনে সবাই উৎফুল্ল। হঠাৎ একজন এসে জানাল গুলিস্তানের পীর ইয়ামেনী মার্কেটে কিছু লোক রহস্যজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছে। খবর পেলাম নেত্রী রওনা দিচ্ছেন। দলের সিনিয়র নেতা আমু ভাই, সুরঞ্জিত দা, কাদের ভাই মঞ্চে চলে গেলেন। আমরা নেত্রীকে রিসিভ করার জন্য যুবলীগের প্রায় দুই হাজার নেতা-কর্মী ওসমানী মিলনায়তনের সামনে গেলাম। এলাকা লোকারণ্য হয়ে গেল, নেত্রীর গাড়ি খুব কষ্ট করেই ভেতরে নিয়ে গেলাম। নেত্রীকে নিয়ে সমাবেশে ঢুকতেই দেখি সেখানে স্পেস নেই, তাই আমরা ভেতরে গেলাম না। আমরা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছি আর দাঁড়িয়ে বক্তৃতা শুনছি। বিকেল ৫টা ১৩ মিনিটে নেত্রীর বক্তৃতা শেষপর্যায়ে। হঠাৎ মঞ্চ ঘিরে শুরু হলো একের পর এক গ্রেনেড বিস্ফোরণ। মুহুর্মুহু শব্দে সবকিছু তছনছ হয়ে গেল। বাঁচাও বাঁচাও, মাগো, বাবাগো চিৎকারে পুরো এলাকা ভারী হয়ে গেল। মানুষ চারদিকে ছুটোছুটি করছে। এমন সময় দেখলাম নেত্রীর বিশেষ সহকারী আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমকে। চিৎকার করে জিজ্ঞেস করলাম ‘নাসিম নেত্রীর অবস্থা কী’? সে বলল, ‘নানক ভাই অস্থির হয়েন না, মানুষগুলোকে আগে বাঁচান। নেত্রী সেইফলি বেরিয়ে গেছেন। সুধাসদনের দিকে গেছেন।’ আমরা দ্রুত সুধাসদনের দিকে ছুটলাম নেত্রীর কাছে।

ফাইল ফটো

সেই মুহুর্তের অবস্থা তুলে ধরে নানক বলেন, সারাদেশের নেতাকর্মীরা টেলিফোন করে জানতে চাচ্ছেন, তারা কী করবেন! সুধাসদনে ঢুকে দেখি নেত্রী সোফায় বসা আর সোফার হাতলে বসে নেত্রীর গলা জড়িয়ে ধরে কান্না করছেন ছোট আপা (শেখ রেহানা)। তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছে। আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন- ‘বাঁইচা আছো।’ এরই মধ্যে নেত্রীর নিরাপত্তায় পুরো সুধাসদন ঘিরে রেখেছে আমাদের নেতাকর্মীরা। আমি আপাকে বললাম ওদের (বিএনপি-জামায়াত) আর ছাড়ব না। ক্ষমতায় থাকতে দেব না। অনির্দিষ্টকালের হরতাল দিয়ে সব কলাপস করে দিব। রক্তের বদলা নেবই। ওদের পতন না ঘটা পর্যন্ত হরতাল চলবে। যেখানে যার বাড়িঘর আছে, সমস্ত জ¦ালিয়ে দেব। নেত্রী তখন বললেন, আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য। আগে আমার মানুষকে বাঁচাও। হরতাল হলে তারা মুভমেন্ট করতে পারবে না। রাজনীতি পরে। তিনি কেঁদে কেঁদে বললেন ‘আমার জন্য আর কত মানুষ জীবন দিবে? ওদের বাঁচাও। আমার আর রেহানার সমস্ত গহনা বিক্রি করে হলেও ওদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করো।’

নেত্রী চিকিৎসক টিম করে হাসপাতালে নামিয়ে দিতে বললেন। কারণ ড্যাবের ডাক্তাররা সরে গেছে, আহতদের কোনো চিকিৎসা তারা দেবেন না। আমরা তখন ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, প্রফেসর আ ফ ম রুহুল হকসহ আমাদের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বললাম। তারা সবাই যার যার জায়গা থেকে আহতদের চিকিৎসায় নেমে পড়লেন।

নানক দাবি করেন, ঘটনার দিনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ফেনীতে ছিলেন। সেখান থেকে তিনি খোঁজ নিচ্ছিলেন গুলিস্তানের কী খবর। কারণ তার নির্দেশেই এ হামলা করা হয়েছিল। কারণ ঘটনাগুলো ছিল পরিকল্পিত।

তিনি জানান, সেদিন রাতে আবার সুধাসদনে গেলাম। তখন রাত সাড়ে এগারোটা বাজে। নেত্রী বললেন- ‘কালকে তোমরা দুইজন মায়াকে নিয়ে ওই এলাকাটা (সমাবেশস্থল) একটু সংরক্ষণ করো’। পরের দিন সকাল সাড়ে আটটার দিকে সমাবেশস্থলে গিয়ে দেখলাম, সেখানে পুলিশ রয়েছে। তারা আমাদেরকে আমাদের দলীয় অফিসে ঢুকতে দেবে না। আমরা চিৎকার করে বলতে লাগলাম- ‘মরাকে আর মারার ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। গুলি করেন বুকে। তারপরও ঢুকবো।’এক সময় ওয়াকিটকিতে কার সঙ্গে যেন কথা বলল পুলিশ। আমরা ধাক্কা দেয়ার পর তারা সরে গেল। আমরা যখন ঢুকলাম, তখনও রক্ত শুকায় নাই। ছোপ ছোপ রক্ত পড়ে আছে। যুবলীগ অফিসে ঢুকে দেখি কারও বিচ্ছিন্ন আঙ্গুল পড়ে আছে। পা ফেলতে পারছি না। হাতের আঙুল, নখ, দেহের ছিন্নবিচ্ছিন্ন অংশ, হাজার হাজার জুতা পড়ে আছে। লাল ব্যানার ছিঁড়ে লাঠিতে বেঁধে ট্রাকসহ পুরো এলাকা আমরা ঘিরে রাখলাম। গ্রেনেডের ক্ষত চিহ্নিত জায়গাগুলো লাল পতাকা টানিয়ে দিলাম। যে ট্রাকটা অস্থায়ী মঞ্চ ছিল, সেটি মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। একজন আর্মি অফিসার আর বিচারপতি জয়নুল আবেদীন এসে আমাদের দেখে বিব্রতবোধ করছিলেন। ওইদিন রাতেই (২২ আগস্ট) সিটি করপোরেশনের গাড়ি সব আলামত ধুয়ে ফেলল। ট্রাকটা নিয়ে গেছে। কোনো আলামত তারা রাখেনি। সবকিছু নিশ্চিহ্ন করে রেখেছে।

পরিস্থিতি নিয়ে দলীয় প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরে নানক বলেন, সোবহানবাগের একটি হোটেলে বসে পরদিন আমরা করণীয় নির্ধারণে বসি। ঢাকায় যেহেতু সেদিন যুবলীগ তাৎক্ষণিক তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেনি। তাই আমি, যুবলীগের তখনকার সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম এবং নেত্রীর বিশেষ সহকারী আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে ঢাকা মহানগর যুবলীগের ১০৯টি কমিটি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বাতিল করে দিলাম। এরপর সাত দিনের মধ্যে আমরা সেই কমিটিগুলো গঠন করলাম। সারাদেশে আন্দোলনে উত্তাল হয়ে গেল।

নানকের রাজনৈতিক পথচলা : আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের রাজপথের সৈনিক নানক ১৯৭৫ সালে ছিলেন বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ১৫ আগস্টের কালরাতে ঢাকায় থাকার সুবাদে দেখেছেন দলীয় রাজনীতির পুরো পরিস্থিতি, তৎকালীন নেতাদের নানা হীনমন্যতা। ‘বিডিআর বিদ্রোহে’র সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শান্তির পতাকা হাতে নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। এরপর যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন দলের দুঃসময়ে। ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, পরে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা-১৩ আসন থেকে দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালন করেছেন স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার কারাবরণ করেছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2009-2022 bddhaka.com  # গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Developed BY ThemesBazar.Com