1. bddhaka2009bd@gmail.com : FARUQUE HOSSAIN : FARUQUE HOSSAIN
  2. bddhakanews24.com@gmail.com : admi2017 :
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
আমরা যুব কর্মসংস্থান করেছি, বিএনপি করেছে হত্যা: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ এখন কঠিন সময় পার করছে দেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩ দোকান মালিক পেলেন প্রধানমন্ত্রীর অনুদান চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ভোলাহাটে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস পালিত নাচোলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত। শিবগঞ্জে মাসিক কেস কনফারেন্স সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ত্রিমোহনী সেতুর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ‘রানীগঞ্জ সেতু’ উদ্বোধন ঢাকা-সুনামগঞ্জের দূরত্ব কমল ৫৫ কিলোমিটার নাচোলে বিএমডিএ’র অপারেটাকে উৎকোচ না দেয়ায় এক উদ্যোক্তার ২২বিঘার আম বাগান নষ্ঠ পথে

গাজীরটেক ইউনিয়নের পদ্মা পাড়ের দুর্গম চরাঞ্চলের ছাপড়া ঘরে বীরাঙ্গনা চারুবালার বসবাস, দেখতে গেলেন ওসি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১
  • ২১৭ বার পঠিত

ফরিদপুর সংবাদদাতা : ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের পদ্মা পাড়ের দুর্গম চরাঞ্চলের রমেশ বালার ডাঙ্গী গ্রামে অসুস্থ বীরাঙ্গনা চারুবালাকে (৬৭) দেখতে গেলেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এ সময় তিনি অসুস্থ চারুবালার হাতে বিভিন্ন রকমের ফল তুলে দেন। সোমবার (১৯ এপ্রিল) বিকালে দুর্গম চরাঞ্চলে কখনও হেটে আবার কখনও ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে রমেশ বালার ডাঙ্গী গ্রামে অসুস্থ বীরাঙ্গনা চারুবালার খুপড়ি ঘরে পৌঁছান চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া হোসেন। এ সময় থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ফিরোজ আলী মোল্যা, এসআই আওলাদ হোসেন ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বীরাঙ্গনা চারুবালার সাথে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেখা করতে যাওয়ায় খুব আনন্দ প্রকাশ করেন চারুবালা। আবেগে আপ্লুত হয়ে কান্না করেন চারুবালা।

অশ্রুসিক্ত চারুবালা তার অনুভুতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘আজ আমি খুব খুশি। এই দুর্গম চরাঞ্চলে আমাকে দেখতে এসেছেন ওসি সাহেব।’

তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হায়েনারা আমার স্বামী চন্দ্র চরণ বিশ্বাসকে গুলি করে হত্যা করে এবং আমার কোলে থাকা শিশু কন্যা পার্বতীকে (২) আছাড় দিয়ে মেরে ফেলার পর আমার উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। ঘরবাড়ি সবকিছু পুড়িয়ে দেয়া হয়। ঘটে যাওয়া সেই বিভীষিকাময় দিনটি আমার চোখে আজও ভাসে। এরপর থেকে একাই আছি। শরীরটাও ভালো নেই। ওষুধ কেনার মতো টাকাও নেই। কোন রকমে ভাইয়ের সহযোগিতায় দুবেলা দুমুঠো খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি।

চারুবালা বলেন, আমার কথা জানতে পেরে পায়ে হেটে ও ঘোড়ার গাড়িতে বহু কষ্ট করে পুলিশ অফিসাররা আমাকে দেখতে এসেছেন। এখন মনে হল জাতি আমাকে ভুলে যায় নাই, এর চেয়ে বড় কিছু আমার আর চাওয়ার নাই।

তিনি জানান, স্বাধীনতা পরবর্তী এ যাবৎকাল কেউ তার খবর নেয় নাই।

জেলা শহর ফরিদপুর শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি নামক একটি সংগঠন সম্প্রতি চারুবালাকে খুঁজে বের করে নগদ ৫ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তাদের পরিচয় তুলে ধরছেন।

চারুবালা বলেন, ‘আমার নেই কোনো থাকার ঘর, ভাইয়ের জমিতে একটি ছাপড়া উঠিয়ে সেখানে থাকি। বৃষ্টির দিন আসছে, ছাপড়া দিয়ে পানি পড়ে। থাকতে খুব অসুবিধা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে না পেলাম মর্যাদা, না পেলাম থাকার ঘর। কিছুই পাইনি। যুদ্ধের সময় সব হারিয়ে গেছে। এখন বয়স হয়ে গেছে। চাওয়া পাওয়ার আর কি আছে। তারপরও শেষ জীবনে যদি নিজের একটি ঘর হতো তাহলে শেষ জীবনটা ভালোভাবে কাটতো।’

অসহায় বীরাঙ্গনা চারুবালা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বলেন, আমার নিজের বলে কিছু নেই। থাকি ভাইয়ের জায়গায় একটি খুপরি ঘরে। স্থানীয় প্রভাবশালী ও বখাটেরা তার ভাইয়ের জমিজমা নিয়ে ঝামেলা করছে এবং হুমকি ধামকি দিচ্ছে।

এ সময় থানা ওসি প্রতিবেশীদের ডেকে এনে শাষিয়ে দেন এবং যেকোনো সমস্যার ব্যাপারে সরাসরি তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করেন।

সরেজমিনে বীরাঙ্গনা চারুবালার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধে সবকিছু হারিয়ে ওই গ্রামের পদ্মা নদী থেকে প্রায় ৫কিলোমিটার দূরে দুর্গম বালুচর ও ফসলি মাঠের জমির মধ্যে আপন ভাই সিদ্ধিচরণ সরকারের আশ্রয়ে তার বসতভিটের উত্তর পাশে ছোনবন ও পাটখড়ি দিয়ে গড়া জরাজীর্ণ পুরাতন একটি ভাঙা ছাপড়ায় বসবাস করেন চারুবালা।

বীরঙ্গনা চারুবালার ছাপড়া দেখে মনে হয়, ঘরতো নয়, যেন হাঁস-মুরগি পালনের খোয়ার।

গাজীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী বলেন, বীরাঙ্গনা চারুবালাকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে গত ৫ বছর বিধবা ভাতার কার্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে সরকার থেকে প্রদত্ত অনুদান তাকে দেয়া হয়েছে।

ফরিদপুর শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি শেখ সাজ্জাত হোসেন বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি হায়েনারা চারুবালার স্বামী, সন্তানকে মেরে ফেলে, তাকে শারীরিক নির্যাতন করে এবং বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার পর ওই দুর্গম চরাঞ্চলে বীরাঙ্গনা চারুবালা অসহায় হয়ে ৫০টি বছর কাটিয়ে দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2009-2022 bddhaka.com  # গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Developed BY RushdaSoft