মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গোমস্তাপুরে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে আলোচনা সভা স্কুল বালক-বালিকাদের দিনব্যাপী দাবা প্রতিযোগিতা তোমাদের মানুষের মতন মানুষ হতে হবে : এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে মেয়র মোখলেস ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে জেলা প্রশাসনের আর্থিক সহায়তা ২ নভেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ মনি স্বদেশ বিচিত্রা সম্মাননায় ভূষিত হবেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালার সমাপনী পাটচাষি সমাবেশ : উৎপাদনে ভূমিকা রাখায় ক্রেস্ট পেলেন ১০ চাষি পরীক্ষার ফল ভালো করলে সবই করে দেয়া হবে : শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজে ওদুদ এমপি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২২৭ জাতের আম নিয়ে আম মেলা শিবগঞ্জে ভিজিএফের চাল পেল ৭৩৮৩৫টি অসহায় পরিবার

ভারত রপ্তানি বন্ধ করায় বাংলাদেশ ভ্যাকসিন ঘাটতির মুখোমুখি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ২৪২ বার পঠিত

নিউজ ডেস্ক : ভারত করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের চালান বন্ধ করে দেওয়ার পর বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচির প্রচেষ্টা বড় ধরনের আঘাত পেয়েছে। নতুন সংক্রমণ ও ক্রমবর্ধমান মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধির সময় ভারত রপ্তানি থামিয়ে দিয়েছে।

ইংরেজিতে ছাপা জার্মানির ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে রাজধানী ঢাকায় বসবাসরত সাংবাদিক মুহিউদ্দিন নিলয়ের এক ফেসবুক পোস্টের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, তিনি টিকাকেন্দ্রে হাসিখুশি মুখে নিজের ছবি পোস্ট করে ফেসবুকে লিখেন, করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিলাম। তিনি কয়েক হাজার বাংলাদেশির মধ্যে একজন, যিনি এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিনের দুই ডোজ পেতে সক্ষম হয়েছেন।

করোনাভাইরাসের এক নতুন ঢেউ গত এক মাস ধরে বাংলাদেশ প্রবাহিত হয়েছে যাতে প্রতিদিন সংক্রমণ সাতগুণ এবং মৃত্যুর হার তিনগুণ বেড়েছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ৭ লাখ এবং মৃত্যু ১০ হাজার ছাড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মৃত্যু এবং সংক্রমণের প্রকৃত হার আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়- তারা বলছেন, প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা খুব কঠিন কারণ দেশটির ১৬ কোটি ৭০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে খুব কম সংখ্যক লোকই করোনা পরীক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন।

বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে ১ কোটিরও বেশি ভ্যাকসিনের ডোজ গ্রহণ করতে পেরেছে, কিছু উপহার হিসাবে, এবং বাকীগুলো ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের (এসআইআই) সাথে বাণিজ্যিক চুক্তির অংশ হিসেবে, যা অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার করোনার ভ্যাকসিন তৈরি করছে।

সাংবাদিক নিলয় বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ খুব দ্রুত টিকা কার্যক্রম শুরু করেছিল। একটি অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমের মাধ্যমে সুন্দরভাবে এটি করা হচ্ছে। কোন সমস্যা ছাড়াই আমি কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে উভয় ডোজ পেয়েছি।

‘এস্ট্রাজেনেকার কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে সন্দেহ’ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন সম্পর্কে সবার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নেই। এই মুহুর্তে বাংলাদেশ করোনার বিরুদ্ধে একমাত্র এটি-ই ব্যবহার করছে। কিছু লোক সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি দেশ উত্থাপিত সুরক্ষা ইস্যুর কারণে এই ভ্যাকসিন গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঢাকার একজন স্কুল শিক্ষিকা শানু অর্পিতা বলেছিলেন যে তিনি এই ভ্যাকসিনকে কার্যকর মনে করেন না। তিনি বলেন, আমি মনে করি না এস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন কোন প্রভাব ফেলবে কারণ আমি এর কার্যকারিতার স্বপক্ষে কোনও সুদৃঢ় প্রমাণ দেখি নি। সরকার কয়েকটি খাতের জন্য ভ্যাকসিন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে। তবে আমার মতো সাধারণ মানুষরা এটি গ্রহণে আত্মবিশ্বাসী নই।

ভ্যাকসিনের সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও, ফেব্রুয়ারিতে টিকাদান শুরু হওয়ার পর থেকে লাখ লাখ লোক তা নিতে অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন।

এখন পর্যন্ত ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ ভ্যাকসিনের একটি ডোজ পেয়েছেন। আর নয় লাখ ৩০ হাজার মানুষ দুই ডোজ পেয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান হারে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হতে থাকলে মজুতে থাকা ভ্যাকসিন আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। বর্তমানে দৈনিক প্রায় দুই লাখ মানুষ ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রথম ডোজ নিচ্ছেন। দেশে মজুত থাকা এক কোটি দুই লাখ ডোজ ভ্যাকসিনের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।

‘ভারত ভ্যাকসিন রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে’ অংশে ডয়চে ভেলে জানায়, বাংলাদেশ এখন তার নাগরিকদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভ্যাকসিন দিতে পারবে কিনা তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে আশঙ্কা করছে। দেশটি ভ্যাকসিনের ৩ কোটি ডোজ প্রস্তুত করার জন্য ২০২০ সালে সেরামের সাথে একটি বাণিজ্যিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুসারে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে প্রতি মাসে তার ৫০ লাখ ডোজ করে পাওয়ার কথা।

কিন্তু ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম দুই মাসে এই চুক্তির আওতায় দেশটি কেবল ৭০ লাখ ডোজ পেয়েছে। বাকি ৩০ লাখ ডোজ ভারত সরকার অনুদান হিসেবে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সংক্রমণের মাত্রা তীব্রভাবে বৃদ্ধির মধ্যে ভারত তার অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সেরাম কর্তৃক তৈরি ভ্যাকসিন গত মাসে রপ্তানি বন্ধ করায় বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এটা এখনও স্পষ্ট নয় সেরাম কবে আবার প্রতিশ্রুত ভ্যাকসিনের ডোজ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে, তবে বাংলাদেশ সরকার আশা করছে সেগুলো তারা শিগগিরই পাবে।

বাংলাদেশে সেরামের স্থানীয় এজেন্ট বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাজমুল হাসান পাপন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা সেরামের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। সেরাম আমাদেরকে জানিয়েছে যে, তারা (ভ্যাকসিন) রপ্তানি করতে প্রস্তুত। কিন্তু, এজন্য ভারত সরকারের কাছ থেকে ছাড়পত্র প্রয়োজন। সেরাম এখনো সে ছাড়পত্রটি পায়নি।

সেরাম কখন এ তথ্য জানিয়েছে, জানতে চাইলে বেক্সিমকো এমডি বলেন, যখনই আমরা যোগাযোগ করি, তখনই তারা এটা বলে। এ সপ্তাহেও সেরাম একই কথা জানিয়েছে। ছাড়পত্রটি পেলেই আমরা জানতে পারব যে, সেরাম ভ্যাকসিনের কতগুলো ডোজ আমাদেরকে পাঠাতে পারবে এবং কখন পাঠাতে পারবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ভ্যাকসিনের নির্দিষ্ট পরিমাণ ডোজের জন্য যে টাকা দিয়েছি সেগুলো পাওয়ার জন্য আমরা ভারতের সাথে যোগাযোগ করছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মাসে ঢাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। আমাদের কাছে এখনও ভ্যাকসিন রয়েছে, তাই টিকাদান কার্যক্রম চলছে। বর্তমান মজুদ শেষ হওয়ার আগেই আমরা নতুন ভ্যাকসিন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

‘বাংলাদেশের আরও অনেক টিকার উৎস দরকার’ অংশে ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, পর্যবেক্ষকরা বলছেন ভারত সংক্রমণের এক নতুন ঢেউ মোকাবেলার জন্য লড়াই চালাচ্ছে। তাই শীঘ্রই ভ্যাকসিন রপ্তানি পুনরায় চালু করা সম্ভব হতে পারে না।

গত ২৪ ঘন্টায় ভারতে ২ লাখ ১৭ হাজার নতুন শনাক্ত এবং ১,১৮৫ জনের নতুন মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা আবারো সর্বোচ্চ দৈনিক রেকর্ড। বিশ্বব্যাপী প্রতি ছয়টি নতুন সংক্রমণের মধ্যে একটি এখন ভারতে।

ভ্যাকসিনের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে, ভারত সরকার পশ্চিমা দেশ এবং জাপান কর্তৃক অনুমোদিত করোনার ভ্যাকসিনগুলোর জরুরী অনুমোদনের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে ভাবছে যা, বায়োএনটেক-ফাইজার, জনসন এন্ড জনসন এবং মডার্না ভ্যাকসিনের সম্ভাব্য আমদানির পথকে প্রশস্ত করেছে।

বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষের জন্য কমখরচে চিকিৎসা প্রদানকারী সংস্থা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ঢাকা করোনা ভ্যাকসিনের জন্য একটিমাত্র উৎসের উপর নির্ভর করে ভুল করেছে। রাশিয়া সহ অন্যান্য দেশ থেকে আমাদের ভ্যাকসিন নেওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু সরকার সেসব সুযোগ গ্রহণ করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়। আমাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য স্থানীয়ভাবে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারের তা নিয়ে কাজ করা দরকার।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী হোসেন বলছিলেন, সামনের মাসগুলোতে দেশের ৮০% জনগণকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করার কারণে তার সরকার অন্যান্য উৎস থেকে ভ্যাকসিন নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা এই লক্ষ্য অর্জন না করা পর্যন্ত আমাদের মাস্ক পরে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং নিয়মিত হাত ধুয়ে নিরাপদ থাকতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2009-2022 bddhaka.com  # গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Developed BY ThemesBazar.Com