বিডি ঢাকা ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ১০০ টাকা নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে বাবুল হোসেন নামে এক মুদি দোকানিকে হত্যার ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শিবগঞ্জ পৌরবাসীর আয়োজনে ইসরাইল মোড়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নৃশংসভাবে বাবুল হত্যার ঘটনায় পুলিশ এখনও নিরব ভূমিকা পালন করছে। হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদেরকে গ্রেপ্তার করছেনা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ প্রশাসন যদি আসামিদের গ্রেপ্তার না করে, তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো এবং শিবগঞ্জ থানার সমস্ত পুলিশকে প্রত্যাহারের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্ত হবো। বক্তারা আরও বলেন, সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারীদের কোন দল নেই। তাদের কোন সমাজ নেই। সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারীদের প্রতিহত করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করবো।
ঘণ্টাব্যাপি চলা মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন মেহেদী, শিবগঞ্জ শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি ইউসুফ আলী, শিবগঞ্জ পৌর জামায়াতের সহকারী আমির আবদুস সামাদ শামীম রেজা, নিহতের ছোট ভাই ও বাবুল হত্যার মামলার বাদি নজরুল ইসলাম, নিহতের ছেলে শওকত হোসেন সাঈদ, স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ইতি, শাহীন আলী ও ব্যবসায়ী বাহারুল ইসলামসহ অন্যরা।
মানববন্ধনে পুলিশের বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগ অস্বীকার করে শিবগঞ্জ থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের ভাই নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে ১৫-১৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য জোর তৎপর চলছে। ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আসামিরা যেই হোক না কেন, কোন ধরণের ছাড় দেয়া হবে না। শিগগির আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ আগস্ট সকালে শিবগঞ্জ পৌর এলাকার ইসরাইল মোড়ে বড়চক এলাকার গুমানের ছেলে আসাদুল নিহত বাবুলের ভাই মোয়াজ্জেম হোসেনের বিকাশের দোকান থেকে দুই হাজার টাকা ক্যাশআউট করেন। দুই ঘণ্টা পর আবারো দোকানে এসে ১০০ টাকার একটি নোট ছেঁড়া রয়েছে বলে ফেরত নেয়ার দাবি জানালে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। কিছুক্ষণ পর বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ১০-১৫ জন লোক মোয়াজ্জেমের দোকানে হামলা চালান আসাদুল। এ সময় ভাইকে বাঁচাতে গেলে হামলার শিকার হন মুদি দোকানী বাবুল হোসেন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে স্বাস্থ্যের উন্নতি হলে বাবুল হোসেনকে বাসায় নিয়ে যায় স্বজনরা। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হলে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। নিহত বাবুল হোসেন শিবগঞ্জ পৌর এলাকার জালমাছমারী মহল্লার মৃত ইলিয়াস উদ্দিনের ছেলে।