
বিডি ঢাকা ডেস্ক
দেশের উত্তরাঞ্চলে জনজীবন ও কৃষিতে প্রকৃতির প্রভাব আরও গভীর হচ্ছে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে। ভোরের ঘন কুয়াশা জনজীবনকে স্থবির করে তুলেছে। প্রতিদিন এ অঞ্চলে গড়ে এক ডিগ্রি সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা কমছে। এতে কনকনে শীতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
আজ শনিবার( ৩০ নভেম্বর) উত্তরাঞ্চলের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সকাল ৯টায় রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়ান। এতেই উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকায় জেঁকে বসেছে শীত। ডিসেম্বরের শীতের দাপট আরও বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে বলে আভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ফিনজাল-এর পর সারাদেশের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। বাড়তে পারে শীত। পাশাপাশি ডিসেম্বরের শুরুতেই কয়েক বিভাগে বইতে পারে শৈত্যপ্রবাহ। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরাঞ্চলে মৃদু শৈত্য প্রবাহ চলে এসেছে।
উত্তরাঞ্চলের শীতপ্রবণ এলাকাগুলোতে ভোরের দিকে ঘন কুয়াশার কারণে পথঘাট ঢেকে থাকার ফলে যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তীব্র ঠান্ডার কারণে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশা সরাসরি কৃষি জমিতে প্রভাব ফেলছে। সরিষা, আলু ও সবজির ক্ষেতে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ঘন কুয়াশায়। বিশেষ করে আলুর গাছে পচন ধরার ঝুঁকি বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ধরনের কনকনে শীত প্রতি বছরই আসে, তবে এবছর তা আরও তীব্রতর বলে মনে হচ্ছে।
আকাশ পরিষ্কার হলেও ঘনকুয়াশা নেমে এসেছে যেন সমতলে। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা শুধু কমছেই। বিগত এক সপ্তাহের ব্যবধানে তাপমাত্রা ১৬ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক জিতেন্দ্র নাথ রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ছাড়া আজ শনিবার(৩০ নভেম্বর) দিনাজপুরে ১২ দশমিক ৫ , নীলফামারীর ডিমলায় ১৩ দশমিক ৫, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১৩ দশমিক ৬, নীলফামারীর সৈয়দপুর ১৪ দশমিক ৪, ও রংপুর ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্ব নিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
ঘূর্ণিঝড় ফিনজালের পর সারাদেশে শীতের অনুভূতি তীব্র হতে পারে জানিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।