
বিডি ঢাকা ডেস্ক
লেবু উৎপাদনের জন্য পরিচিত ঝালকাঠি জেলায় রমজান শুরু হতেই বাজারে লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে লেবুর হালি ৪০-৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন বাজারে প্রতি পিস লেবু ২৫ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
জেলার সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলী এলাকা বাণিজ্যিক লেবু চাষের জন্য সুপরিচিত। ভীমরুলীর ভাসমান হাটে কৃষকেরা নৌকা ও গাড়িতে করে পাইকারি বিক্রির জন্য লেবু নিয়ে আসেন। তবে চলতি মৌসুমে উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জেলার কয়েকটি হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চায়না, কাগজি, দেশি ও এলাচি সব ধরনের লেবুর দামই বেড়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানে ইফতারে লেবুর শরবতের বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে একটি অসাধু চক্র পরিকল্পিতভাবে দাম বাড়িয়েছে। বছরের অন্য সময়ে লেবুর চাহিদা কম থাকলেও রমজানে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা করছেন বলে দাবি তাদের।
অন্যদিকে লেবু চাষি ও বিক্রেতারা বলছেন, উৎপাদন কম হওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা পর্যায়ে।
ভীমরুলীর লেবু বাগান মালিক নিতাই রায়, গনেশ বাবু ও রফিকসহ একাধিক চাষি জানান, এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ফলন কম হয়েছে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে অনেক গাছে ফুল ঝরে গেছে, ফলে
লেবু চাষি জীবন মন্ডল জানান, তিনি সম্প্রতি ১০০টি লেবু বিক্রি করেছেন ১৪ হাজার ৮০০ টাকায়, অর্থাৎ প্রতি পিস ১৪ টাকা ৮০ পয়সা হিসেবে। এক সপ্তাহ আগে একই পরিমাণ লেবু ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন। তার দাবি, চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে উৎপাদন কম থাকায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে।
রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।