বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন

সরকারি বাংলোতে থেকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে ছিনতাই

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩২১ বার পঠিত

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : এক বছরের বেশি সময় ধরে তারা ডাকাতি ছিনতাই করে আসছিল পুলিশ পরিচয়ে। অস্ত্র ঠেকিয়ে হাতে হ্যান্ডকাপ দিয়ে গাড়িতে তুলে ভয় দেখিয়ে ছিনিয়ে নিতেন সব কিছু। একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হলেও তাদের হদিস পাচ্ছিল না পুলিশ। ঘুম হারাম হয়ে যায় পুলিশের।এরপর পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে এ অপরাধীদের সন্ধানে। তবে কোনো কূলকিনারা করতে পারছিলনা।
গত সপ্তাহে শহরের জি কে এলাকায় এক নারীর সব লুট হয়ে যায়। এরপর পুলিশের কাছে কিছু ক্লু আসে। সেই ক্লুধরে মাঠে নামে একাধিক টিম। এরপর একজনের খোঁজ মেলে। তারপর তিন সদস্য ধরা পড়ে পুলিশের জালে। অনেকটা হাঁফছেড়ে বাঁচেন পুলিশ সদস্যরা। এমন একটি টিমকে ধরতে পেরে তারাও খুশি।গ্রেফতারকৃতরা হল- ঢাকার সাভার এলাকার জমির খানের পুত্র আরিফুল ইসলাম, নোয়াখালী জেলার কালামিয়ার গ্রামের তোফাজ্জেল হকের ছেলে খোকন মিয়া ওরফে জামাল মিয়া ও রাজবাড়ী সদরের কোলারহাট এলাকার আব্দুর রবের ছেলে হারুন ওরফে বাবু মিয়া।

জেলা পুলিশ এ নিয়ে সোমবার সকালে প্রেসবিফ্রিং করে। সেখানে অপরাধীদের বিষয়ে বিফ্রিং করেন পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, আতিকুল ইসলাম আতিক, ফরদাহ হোসেন খান, ডিবির ওসি আমিনুল ইসলাম খান, ইন্সপেক্টর আশরাফুল ইসলামসহ অন্যরা।

এ পর্যন্ত কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলায় নানা অপকর্ম করে অবশেষে কুষ্টিয়ায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ল তিন অপরাধী। রোববার রাতে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে আটক করে পুলিশ। তাদের টিমের আরও আট সদস্য পলাতক রয়েছে। এদের কাছ থেকে একটি কালো রঙের গাড়ি, দুইটি পিস্তল, ছুরি, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাপ, সেনাবাহিনীর গেঞ্জি, বুট, নগদ অর্থ, মাদক ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্ন সরকারি বাংলোতে থাকতেন তারা। নিয়মিত পান করতেন ফেনসিডিল। দিনে কালো গাড়ি নিয়ে চলাফেরা করতেন শহরে। সুযোগ বুঝে লোকজনকে জিম্মি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ছিনিয়ে নিতেন অর্থ স্বর্ণালঙ্কারসহ মানুষের সম্পদ।

পুলিশ সুপার জানান, তারা কালো গাড়ি নিয়ে শহরে ঘুরে সুযোগ বুঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে মানুষের সব কিছু লুটে নিত। তারা উপজেলার সরকারি বাংলোতে রাতযাপন করে মাদক সেবন করত। এদের ধরতে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছিল পুলিশের একাধিক টিম। দীর্ঘ সময় কাজ করার পর অবশেষে তিনজনকে ধরতে পেরেছে পুলিশ।

তিনি আরো জানান, কুষ্টিয়ায় তারা ছয়টি ঘটনা ঘটিয়েছে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় তারা বহু অপকর্ম করেছে। তাদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে। এদের নামে অন্য থানায় আরও মামলা রয়েছে। মামলা দায়েরের পর তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2009-2022 bddhaka.com  # গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত # এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Theme Developed BY ThemesBazar.Com